on page SEO
SEO

অনলাইন সার্চে শীর্ষ স্থান পেতে ওয়েবসাইটের অনপেজ এসইও !

অনলাইন সার্চে শীর্ষ স্থান পেতে ওয়েবসাইটের অনপেজ এসইও !

Website to get the top spot in online search on page SEO!

on page SEO

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে ওয়েবসাইটের অনপেজ এসইও । এসইও সম্পর্কে জানতে হলে নিচের এসব বিষয়ে জানতে হবে। আজকে ওয়েবসাইটের অনপেজ এসইও নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো এবং এভাবে আপনি কাজ করলে ১০০% সাইট রাঙ্ককিং বাড়বে।

গুগলে শীর্ষে যে ফলাফলটি প্রকাশিত হয়। সেখানে ক্লিক করার ৩৩% সুযোগ রয়েছে এর অর্থ আপনি যদি পৃষ্ঠায় এক নম্বরে না থেকে থাকেন তাহলে আপনি সম্ভাব্য ট্র্যাফিকের এক তৃতীয়াংশ মিস করেছেন আরও অবাক করার বিষয় হলো যে, ৭৫% লোক অনুসন্ধান এর পর অনুসন্ধান ফলাফলের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় ক্লিক করবে না।

গবেষণায় দেখা যায় যে,ওয়েবসাইটের পৃষ্ঠাটি লোড হতে ৩ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে ৪০% দর্শক ওয়েবসাইট ত্যাগ করবেন। মারাত্মক বিষয়টি হলো ৮০% দর্শক সেই ওয়েবসাইটে আর ফিরে আসবে না। এজন্য চলুন ওয়েবসাইটের অনপেজ এসইও এর দিকে একটু সময় দেই।

চলুন শুরু করা যাক- অনলাইন সার্চে শীর্ষ স্থান পেতে ওয়েবসাইটের অনপেজ এসইও।

১. এসইও কি ?

২.এসইও কেন করবেন ?

৩.কিভাবে গুগল তার সার্চ রেজাল্ট দেখায় ?

৪.রাঙ্কিং ফ্যাক্টর কি ?

৫.অ্যালগোরিদম কি ?

৬.এসইও কত প্রকার ও কি কি ?

৭.ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কি ?

৮.হোয়াইট হ্যাট এসইও কি ?

৯.গ্রে হ্যাট এসইও কি ?

১০.অন পেজ এসইও কি ?

১১.অফ পেজ এসইও কি ?

website on page SEO

ওয়েবসাইটের অনপেজ এসইও

এসইও হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের সংক্ষিপ্ত রূপ। এসইও হলো একটি পদ্ধতি। যে পদ্ধতিতে ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করানো হয়। অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিনে নির্দিষ্ট এক বা একাধিক কিওয়ার্ড দ্বারা সার্চ রেজাল্টে ওয়েবসাইটটিকে প্রথমে প্রদর্শন করার প্রক্রিয়াটি হচ্ছে এসইও।

কেন অনপেজ এসইও করবেন ?

ওয়েবসাইটের অনপেজ এসইও গুরুত্বপূর্ণ কারন ওয়েবসাইট সার্চে রাঙ্ক করার জন্য।

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (এসইও) নিয়ে কাজ করতে গেলে সবার আগে জানতে হবে সার্চ ইঞ্জিন ও সার্চ রেজাল্ট কী।

সার্চ ইঞ্জিন

সার্চ ইঞ্জিন হলো ওয়েব দুনিয়ায় যেকোনো তথ্য খুঁজে বের করার প্রযুক্তিমাধ্যম। সার্চ ইঞ্জিনগুলো ওয়েবের প্রায় সব ওয়েবসাইটের ইনডেক্সগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে এবং ইউজারের সামনে তা প্রদর্শন করে। সেরা ৫টি সার্চ ইঞ্জিন হলো- গুগল, ইয়াহু, বিং, আস্ক ও বাইডু

সার্চ রেজাল্ট

আপনি গুগলে কিওয়ার্ড লিখে গুগলে সার্চ দেয়ার পর অনেক ওয়েবসাইট চলে আসবে। এটিই হলো সার্চ রেজাল্ট।

এসইও

website on page SEO

হোয়াইট হ্যাট

হোয়াইট হ্যাট এসইও বলতে সার্চ ইঞ্জিনের সব নিয়ম মেনে পরিচ্ছন্ন ও সম্পূর্ণ বৈধভাবে একটি ওয়েবসাইটকে প্রথম পেজে নিয়ে আসার চেষ্টা করাকে বোঝায়। সব সময় অবশ্যই হোয়াইট হ্যাট এসইওর চর্চা করা উচিত।

ব্ল্যাক হ্যাট

অন্যদিকে, বিভিন্ন স্প্যামিং বা প্রতারণার মাধ্যমে এসইও করার চেষ্টা করাকে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও বলে। ব্ল্যাক হ্যাট এসইওর চর্চা করলে ওয়েবসাইট ব্ল্যাক লিস্টেড হবে এবং পরে কখনোই সার্চে আসবে না।

গ্রে হ্যাট এসইও

হোয়াইট হ্যাট ও ব্ল্যাক হ্যাট এসইওর মাঝামাঝি অবস্থাকে বলা হয় গ্রে হ্যাট এসইও

এসইওর কাজ সাধারণত তিন ধাপে করা হয়। যেমন-

১. অনপেজ বা ওয়েবসাইটের ভেতরে।

২. অফপেজ বা ওয়েবসাইটের বাইরে।

৩. টেকনিক্যাল এসইও।

ওয়েবসাইটের অনপেজ এসইও যেই কাজ করতে হয়-নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে-

১.মেটা টাইটেল।

২.ইউআরএল সেটআপ।

৩.মেটা ডিসক্রিপসন।

৪.ইমেজ অপটিমাইজেশন।

৫.ইন্টারনাল লিঙ্কিং।

৬.সাইট স্পিড।

৭.ওয়েবমাস্টার টুল।

৮.রোবট টেক্সট সেট আপ।

৯.সাইটম্যাপ বানানো ও সাবমিট।

১০.এ এম পি সেট আপ।

website on page SEO

অফপেজ এসইও নিয়ে আর একটা পর্ব আলোচনা করবো। আজকে ওয়েবসাইটের অনপেজ এসইও নিয়ে আলোচনা করব-

ওয়েবসাইটের অনপেজ এসইও

মেটা টাইটেল 

আপনার কিওয়ার্ড কে আপনার কন্টেন্ট এর টাইটেলে উল্লেখ করা উচিৎ । কানেন্ট টাইটেল ৫৫-৬০ ক্যারেক্টারের মাঝে স্পেসসহ রাখা। মেটা টাইটেল ট্যাগ হচ্ছে একটি ওয়েবপেজের এইচটিএমএল ট্যাগ। আপনি যখন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করেন, তখন সেটি দেখা যায়। মেটা টাইটেল ট্যাগে ব্র্যান্ড কিওয়ার্ড ইউজ করা উচিত।

মেটা ডেসক্রিপশন 

মেটা ডেসক্রিপশন ট্যাগ হচ্ছে একটি ওয়েবপেজের সামারি এইচটিএমএল ট্যাগ। সামারি দেখে ভিজিটর দ্রুত বুঝতে পারে যে ওয়েবসাইটটি কোন ধরনের কন্টেন্ট দিচ্ছে। মেটা টাইটেল ট্যাগের নিচে থাকে ইউআরএল, তারপর মেটা ডেসক্রিপশন ট্যাগ। আপনার কিওয়ার্ড কে আপনার কন্টেন্ট এর মেটা ডেসক্রিপশনে উল্লেখ করতে হবে এবং অবশ্যই তা শুরুতে রাখা আর ডেসক্রিপশন ১৬০ শব্দের বেশি না হওয়া।

পোস্ট ইউআরএল

আপনার কিওয়ার্ড কে আপনার কন্টেন্ট এর ইউআরএলে উল্লেখ করা । আর মনে রাখবেন আপনার ইউআরএল যেন ছোট হয়।

১. ইউআরএলে এ প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?), আন্ডার স্কোর (_), সটার মার্ক (*) ইত্যাদি থাকবে না।

২. ইউআরএল ছোট হবে।

৩. ওয়েবসাইট পোস্টের ইউআরএল স্ট্রাকচার হবে– রুট ডোমেইন+ পোস্ট হেডলাইন।

কনটেন্ট কীওয়ার্ড

আপনার কিওয়ার্ড কে আপনার কন্টেন্ট এর প্রথম প্যারাগ্রাফ ডেসক্রিপশনের মাঝে উল্লেখ করা এবং আপনি প্রথম ১০০ ওয়ার্ড বা ২০০ ওয়ার্ড এর মধ্যে রাখতে পারেন।

রোবট টেক্সট

রোবট টেক্সটের মাধ্যমে গুগলসহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের রোবটকে ওয়েবসাইটের কিছু ওয়েবপেজ ইনডেক্স অথবা কিছু ওয়েবপেজ ডি-ইনডেক্স করে রাখতে পারবেন।অর্থাৎ আপনি যে ওয়েবপেজগুলোর এক্সেস গুগলসহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনকে দেবেন, শুধু সেই পেজগুলোতে সার্চ ইঞ্জিনের রোবট যেতে পারবে এবং ইনডেক্সও করতে পারবে।

সাইট ম্যাপ

গুগলকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়ার জন্য পোস্টের সাইট ম্যাপ ক্রিয়েট করতে হয়।

website on page SEO

ইমেজ অপটিমাইজ

ইমেজে অবশ্যই অলটার টেক্সট ব্যবহার করতে হবে এবং অবশ্যই ১০০ কেবির নিচে হতে হবে।

ইমেজ অলটার টেক্সট

ওয়েবসাইটের ফটো কন্টেন্টে যথাযথ ইমেজ অলটার টেক্সট ব্যবহার করতে হবে। ইমেজ আপলোড করার ক্ষেত্রে ইমেজের সাইজ ও ফাইল নেইম ঠিক করতে হবে। হাই রেজুলেশনের ইমেজ ব্যবহার করা ভালো। ট্যাগটি ওয়েবসাইটের পোস্টকে অধিক ফোকাস করে থাকে। যা ওয়েবসাইটকে র‍্যাংক করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইন্টারনাল লিংক

আপনি আপনার কন্টেন্ট এর মাঝে যেগুলো রিলেটেড সেইগুলোকে একটার আর একটার সাথে ইন্টারনাল লিঙ্ক করবেন । ইন্টারলিংকিং আপনার ওয়েবসাইটকে রাঙ্কিং এ এগিয়ে রাখে।ইন্টারনাল লিংক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে-

১. ইন্টারনাল লিংক যাতে সিমিলার কন্টেন্ট অথবা কিওয়ার্ডের সাথে করা হয়।

২. সাধারণত কন্টেন্টের শেষের দিকে ইন্টারনাল লিংক করলে ভালো। এতে কন্টেন্ট পড়ার সময় পাঠকের মনোযোগ ঠিক থাকে।

এক্সটার্নাল লিংক 

আপনি আপনার কনটেন্ট এর মাঝে আপনার কন্টেন্ট রিলেটেড ফিল্ডে যারা ভাল দিক নির্দেশনা দিয়েছে তাদের কে লিঙ্ক দিবেন। আপনার কন্টেন্ট এর মাঝ থেকে । এইটা খুব ভালো কাজে দেয় ওয়েবসাইটকে র‍্যাংক করায়।

রিড অ্যাবিলিটি

আপনাকে এম্নভাবে কনটেন্ট লিখতে হবে যেন,পাঠক পড়ে আকর্ষিত হয়। আপনি আপনার কনটেন্ট কে একটা সেপ দিবেন যাতে এটি আপনার কন্টেন্ট এর পাঠকের সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে । আপনি যত রকমের প্রশ্ন হতে পারে ওই কনটেন্ট নিয়ে তার উত্তর দিয়ে দেবেন কনটেন্ট এর মধ্যে।

website on page SEO

লোড স্পিড

আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর লোড টাইম কম রাখবেন। যাতে আপনার ভিজিটর বিরক্ত না হয় । লোড টাইম বেশি হলে ট্রাফিক ওই ওয়েবসাইট ভিসিট করতে চায় না।

এইচটিএমএল পেজ সাইজ

যতদূর সম্ভব এইচটিএমএল পেজ সাইজ কমাতে হবে এবং এতে করে সাইটের লোডিং টাইম ফার্স্ট হবে এবং আপনার ভিজিটর বিরক্ত হবে না ফলে ইউজার অ্যাঙ্গেজমেন্ট বাড়বে।

এএমপি 

আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য এএমপি করবেন যাতে করে আপনার ওয়েবসাইট এর মোবাইল ট্র্যাফিক খুবই ভালোভাবে ও কম সময়ে আপনার ওয়েবসাইট কে ভিজিট করতে পারে ।

হেডিং ট্যাগ

আপনার কন্টেন্ট এর টাইটেল কে এইচটিএমএল ট্যাগ এর মাঝে রাখবেন । এ ছাড়া অন্যান্য এইচটিএমএল ট্যাগ গুলো ব্যাবহার করবেন।

ফেভিকন

ওয়েবসাইটের জন্য ইউনিক ফেভিকন ক্রিয়েট করতে হবে, যা আপনার ব্র্যান্ডের ভেলু বাড়াবে। ফেভিকন সাইজ ১৬ পিক্সেল বাই ১৬ পিক্সেল দিতে পারেন।

ফ্ল্যাশ ফাইল

সাইটে কোনো ধরনের ফ্ল্যাশ ফাইল ব্যবহার না করাই ভালো। ফ্ল্যাশ ফাইলের পরিবর্তে জিফ ফাইল ব্যবহার করতে পারেন।

ব্রোকেন লিংক

যে লিংকে গেলে কন্টেন্ট খুঁজে পাওয়া যায় না সেটায় ব্রোকেন লিংক। সাইটে কোনোভাবেই ব্রোকেন লিংক রাখা যাবে না। সাইট থেকে ব্রোকেন লিংক রিমুভ করতে হবে।

website on page SEO

ডেড লিংক

যে লিংকে গেলে কোনো কিছুই খুঁজে পাওয়া যায় না সেটি ডেড লিংক। সাইটে ডেড লিংক কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মনে রাখবেন, সার্চ ইঞ্জিন সব সময় বড় কনটেন্ট যেখানে অনেক তথ্য, ছবি ও ভিডিও আছে তা প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আপনি যে বিষয়ে লিখতে চান, আগে জেনে নিন তা অনলাইনে কী পরিমাণে খোঁজা হয়। কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সার্চ করলে যে ওয়েবসাইট বা লিংকগুলো আগে আসে। সেগুলোর কনটেন্ট সাজানো, শব্দের সংখ্যা, ছবি ও ভিডিওর ব্যবহার, বিভিন্ন লিংকের ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নিয়ে আরও ভালো কিছু তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে। ধৈর্য নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো কনটেন্ট তৈরি করতে থাকলে ওয়েবসাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে এবং একসময় তা সার্চে শীর্ষ স্থানে আসে।

আমার বিশ্বাস আপনি যদি এভাবে ওয়েবসাইটের অন পেজ এসইও করেন তাহলে সার্চে শীর্ষ স্থান দখল করবেন।

পোস্টটি ভালো লাগলে বা উপকৃত হলে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিবেন এবং Factarticle.com এর সঙ্গেই থাকবেন। কোন প্রশ্ন থাকলে তা কমেন্টে জানাতে পারেন।

BY:Factarticle.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *