Technology

আপনি কি জানেন জিমেইল এর ইতিহাস? দেখে নিন!

আপনি কি জানেন জিমেইল এর ইতিহাস? দেখে নিন!

Do you know the history of Gmail? Take a look!

আজকের আলোচনায় থাকছে ই-মেইল সেবাপ্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম জিমেইল এর ইতিহাস ( জিমেইল ডট কম ) দীর্ঘপথ পেরোনোর গল্প।

জিমেইল এর ইতিহাস অনেকেই জানেন তাদের জন্যই মূলত আজকের দেয়া পোস্টটি। 

জিমেইল ( Gmail ) একটি বিনামূল্যে ওয়েবমেইল,যার সার্ভিস দেয় গুগল। এই জিমেইল ইউ.কে. এবং জার্মানিতে এটি গুগলমেইল নামেই পরিচিত।

the history of Gmail

জিমেইল এর ইতিহাস

জিমেইল এর ইতিহাস অনেক ধরনের প্রতিবন্ধকতা পার করে,এক ধরনের প্রতিযোগিতা করেই আজকের অবস্থানে এসেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ই-মেইল সেবা গুগলের জিমেইল। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দেড়শ কোটির বেশি সক্রিয় গ্রাহক রয়েছে জি-মেইলের। সাফল্যের এ পর্যায়ে আসতে কঠিন সময়ও পার করতে হয়েছে এই সেবাটিকে।

শুরুর দিকে জি-মেইলের ই-মেইল সেবাটি শুধু গুগলের কর্মীদের ব্যবহারের জন্য ছিল। পরবর্তী সময়ে গুগল ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সবার মাঝে জি-মেইল চালুর ঘোষণা দেয়। গুগল যখন জি-মেইল উন্মোচন করে তখন গ্রাহক এটিকে আসলে হাস্যকর হিসেবেই নিয়েছিল।

এর পেছনে কারণটা হলো এপ্রিলের ১ তারিখ তথা ফুল’স ডে-তে উন্মোচন করার কারণে গ্রাহক মনে করেছিল, গুগল তাদের বোকা বানানোর চেষ্টা করছে। গ্রাহক যখন বুঝতে পারেন, গুগল আসলেই সেবাটি উন্মোচন করেছে তখন বিনামূল্যের ই-মেইল সেবাগুলোর তালিকায় গ্রাহকের পছন্দের তালিকায় আসতে শুরু করে জি-মেইলও।

জিমেইল অ্যাকাউন্ট

১৯৯৯ সালে জি-মেইলে নিয়ে কাজ শুরু করে গুগল। সে সময় গুগলের ২৩ তম কর্মী পল বুখেইট তখন প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ই-মেইল সেবা নিয়ে লড়েছেন। কিন্তু অনেক কর্মকর্তাই এটা নিয়ে নাখোশ ছিলেন এমনকি আস্থা রাখতে পারছিলেন না গুগলের ই-মেইল সেবার ওপর। সার্চ ইঞ্জিন প্রতিষ্ঠান ই-মেইল সেবা থেকে লাভবান হতে পারে এটা কোনোভাবেই তারা বুঝতে পারছিলেন না। সে সময় অনেক নির্বাহী কর্মকর্তাই এ প্রকল্প থেকে সরে এসেছেন বলে বেশ কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডোমেইন নামের ইতিহাস গুগলের জি-মেইল ডটকম www.gmail.com ডোমেইন নামটি আগে ছিল বিনামূল্যে ই-মেইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ঘারফিল্ড ডট কমের www.garfield.com। পরবর্তী সময়ে ডোমেইনটি গুগল নিয়ে নেয়। শুরুর দিকে জি-মেইলের ইউআরএল ছিল http://gmail.google.com/gmail যা ২০০৫ সালের ২২ জুন রিডাইরেক্ট করে http://mail.google.com/mail করা হয়।

জিমেইল সার্চ

জি-মেইলে শুরু থেকে সার্চ অপশন ছিল যা ব্যবহার করে ই-মেইল খোঁজার কাজটি সহজ হয়েছে। ২১ মে ২০১২ থেকে জি-মেইলে আরও উন্নত সার্চ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়। এতে ব্যবহারকারীরা যে কোনো শব্দ লিখলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহারকারী কিংবা ব্যবহারকারী ই-মেইল সাজেশন দেখায়।

জিমেইল স্পেস

শুরুতে ব্যবহারকারীদের জন্য জি-মেইল বিনামূল্যে ১ গিগাবাইট স্পেস দেয়। পরবর্তী সময়ে তা ২ গিগা থেকে ৪ গিগাবাইট করা হয়। বর্তমানে বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য জি-মেইল ব্যবহারকারীদের ১৫ গিগাবাইট স্পেস দিচ্ছে যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এর পাশাপাশি ইচ্ছা করলে জায়গা বাড়ানোর সুযোগও দিয়েছে। এক্ষেত্রে ২৫ গিগাবাইটের জন্য মাসিক ২.৪৯ ডলার, ১৬ টেরাবাইট স্পেসের জন্য মাসিক ৭৯৯.৯৯ ইউএস ডলার দিতে হবে। ২০১১ অক্টোবর পর্যন্ত জি-মেইলের ব্যবহারকারী ২৬০ মিলিয়ন। ২০০৫ সালের ১ এপ্রিল জি-মেইলে প্রথম জন্মদিনে গুগল জি- মেইলে স্পেস ১ গিগাবাইট করে।

জিমেইল মোবাইল

জি-মেইল মোবাইল গুগলের জি-মেইলের একটি ই-মেইল সেবা। ২০০৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর জি-মেইল মোবাইল সেবা চালু হয় এবং বর্তমানে প্রায় ৪০টি ভাষায় জি-মেইল মোবাইল সংস্করণ রয়েছে। এতে সহজে গুগলের নানা সেবার মতো জি-মেইলও মোবাইল ফোনে ব্যবহার করা যায়। এটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় স্মার্টফোন কিংবা মোবাইল ফোনে।

the history of Gmail

জি-মেইলের মোবাইলের জন্য বিশেষ অ্যাপসটি বেশ ছোট এবং মোবাইলের স্ক্রিনের সাইজ অনুযায়ী তৈরি করা। এতে ব্যবহারকারীরা মোবাইলে ফোনেই ই-মেইল কম্পোজ, পড়া, আর্কাইভ করা, মেইলের রিপ্লাই করা, ফরওয়ার্ড করা, না পড়া মেইলগুলোকে আনরিড করা, স্টার আইকন অ্যাড করা, কাস্টম লেভেল অ্যাড করা, মেইল মুছে ফেলার কাজ করতে পারেন।

অফলাইনে জি-মেইল

২০১১ সালের ৩১ আগস্ট জি-মেইল ব্লগ অফিসিয়ালি অফলাইন গুগল মেইল চালু করে ক্রোম ওয়েব অ্যাপস হিসেবে যা গুগল ক্রোম ওয়েব স্টোরে পাওয়া যেত। এইচটিএমএল-৫ সমর্থিত এ অ্যাপসটি ট্যাবলয়েডও ব্যবহার উপযোগী। ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল গুগলের কর্মীদের জন্য অফলাইন গুগল ডক এবং গুগল ক্যালেন্ডার চালু করা হয়।

এত কিছুর পরও ২০১২ সাল পর্যন্ত অন্যান্য প্রতিযোগীদের চেয়ে খুব বেশি ভালো করতে পারেনি জি-মেইল। তবুও ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে নিজেদের নিত্যনতুন উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হতে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। ভোক্তা এবং এন্টারপ্রাইজ দু’ধরনের গ্রাহকের জন্য নতুন নতুন ফিচার এনে বর্তমানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে গুগলের জি-মেইল।

জিমেইল ঠিকানা খুলতে মোবাইল নাম্বর

যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে নতুন জিমেইল ঠিকানা খোলার ক্ষেত্রে মোবাইল নাম্বার দিতে হয়। ঠিকানা খোলার পর মোবাইলে একটি নিশ্চিত করণ নাম্বারসহ বার্তা আসে যা দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট চালুর ক্ষেত্রে দিতে হয়। এ বিষয়ে গুগলের ব্যাখ্যা দিয়ে জানায়-

সঠিক ব্যবহারকারীকে সুবিধা দিতেই মোবাইল এসএমএস ভেরিফিকেশন চালু করা হয়েছে। এতে করে স্প্যামারা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না আবার এসএমএসের কোড ব্যবহার করে সঠিক ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।

যদি কারো মোবাইল ফোন না থাকে তাহলে যে কোন বন্ধুর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেও নিশ্চিতকরণ কোড পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে চিন্তার কিছু নেই যে, বন্ধুর নাম্বার আবার ব্যবহারকারীর ই-মেইলের সাথে যুক্ত থাকবে কিনা? এ বিষয়ে গুগলের মতে, গুগল কোন ব্যবহারকারীর নাম্বার সংরক্ষন করে না যদি না ব্যবহারকারী নিজে কোন নাম্বার যুক্ত করেন। আর অ্যাকাউন্ট খোলার সময় যে মোবাইল নাম্বার দেয়া হয় সেটি একবারের জন্যই ব্যবহৃত হয়।

কোন ব্যবহারকারী পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে সেক্ষেত্রে মোবাইল ভেরিফিকেশন দিয়ে পুনরায় পাসওয়ার্ড উদ্ধার করা যায়। এ জন্য ব্যবহারকারীকে অবশ্যই পূর্বে থেকেই উক্ত জি মেইল আইডিতে মোবাইল নাম্বার যোগ করে রাখতে হবে।

পোস্টটি সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিবেন এবং Factarticle.com এর সঙ্গেই থাকবেন।

BY:Factarticle.com

Comments

Tags
Back to top button
Close
Close