Uncategorized

স্বপ্ন কি ? স্বপ্ন নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা

 

What is a dream? Various fantasies about dreams.

dreamস্বপ্ন হলো অতীতের কিছু স্মৃতি, অভিজ্ঞতা বা কোন ঘটনার সঙ্গে একেবারে নিকট বর্তমানের কিছু স্মৃতি, অভিজ্ঞতা, ভাবনা বা কোন ঘটনার সংমিশ্রণে তৈরি একটি লাইভ ছোটগল্প।

ছোটগল্প কী? ছোটগল্প হলো, ‘শেষ হইয়াও হইলো না শেষ’। সুতরাং স্বপ্ন হলো ছোট গল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি লাইভ ছোট নাটিকা। যার সুনির্দিষ্ট কোন উপসংহার হয় না।

স্বপ্নের সঙ্গে ভবিষ্যতের কী সম্পর্ক?

 ভবিষ্যৎ কী? ভবিষ্যৎ হলো অতীত ও বর্তমানের অভিজ্ঞতা, ঘটনাপঞ্জি ও স্মৃতির সমন্বয়ে একটি রেললাইন উপর ধীরে ধীরে বয়ে চলা কর্মফল। সুতরাং স্বপ্নের সঙ্গে ভবিষ্যতের ঘটনার ছোটখাটো একটা যোগসূত্র থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

কেন স্বপ্নের সঙ্গে বর্তমানের খানিকটা মিল পাওয়া যায়। স্বপ্নের সঙ্গে স্থান-কাল-পাত্রের হুবুহু মিল পাওয়াকে নিউরোসাইকিয়াট্রির ভাষায় বলে ডিজা রেভি। অর্থাৎ যিনি স্বপ্ন দেখেন তার কাছে মনে হয়, ‘ঠিক এই জায়গাটি বা এই লোকটিকে গত রাতে স্বপ্নে দেখেছি’।

আমাদের ব্রেইন বেশি পরিশ্রম করে অতীতে ঘটে যাওয়া কোন মুহূর্তকে ভুলে যেতে। কোন কিছু মনে করতে ব্রেইনকে খুব একটা পরিশ্রম করতে হয় না।

স্বপ্ন দেখার পরদিন যদি মনে হয়, কোথায় যেনো মিলে যাচ্ছে- তাহলে বুঝতে হবে স্বপ্নে যা দেখা হয়েছে সেটা অতীতের ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা যা ব্রেইনের স্মৃতি সেন্টার থেকে মুছে গিয়েছে। অবচেতন মনের তৈরি স্বপ্ন সেই ভুলে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে পুনরায় যুগসূত্র দাঁড় করিয়ে দিল।

স্বপ্ন কি কেবল ঘুমের মধ্যেই ঘটতে পারে?

আমরা স্বপ্ন ঘুমের মধ্যেই কেবল দেখি।

*ঘুম দুই প্রকার।

১.র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ REM sleep:ঘুমের সময় চোখ নড়াচড়া করা।

২.নন র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ Non REM sleep: যখন ঘুমের সময় চোখ স্থির থাকে। আমরা স্বপ্ন দেখি মূলত REM sleep এর সময়ে। স্বপ্নকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না তবে আধোঘুমের স্বপ্নকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একে লুসিড ড্রিম বলে।

স্বপ্ন নানান রকম হতে পারে। সুখের, দুঃখের, হাসি বা কান্নার। জন্মান্ধ মানুষ বা বধির ও স্বপ্ন দেখেন। তবে তাদের স্বপ্ন কিন্তু সাদাকালো বা শব্দহীন নয়। তাদের স্বপ্ন আমাদের মতোই বর্ণিল, রিনিঝিনি ছন্দময়। এমনকি জন্ম থেকে প্যারালাইজড রোগী ও স্বপ্নে দৌড়াতে বা খেলতে দেখেন তাঁকে।

স্বপ্ন ভয়ের হতে পারে। স্বপ্নের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য আছে। চাকরি প্রার্থী স্বপ্ন দেখেন তিনি চাকরি পেয়েছেন বা পেয়েও ষড়যন্ত্রে পড়ে তিনি হারিয়ে ফেলেছেন! তাই কেঁদে উঠেন ঘুম থেকে। প্রেমে পড়া তরুণ-তরুণী স্বপ্নে দেখেন, স্বপ্নের মানুষ দৌড়ে দৌড়ে এসে সামনে পড়ে হাঁপাচ্ছে। 

ভয়ের স্বপ্ন সবাই দেখে। ভয়ের স্বপ্ন দেখি যদি আমরা কোন টেনশন বা দুশ্চিন্তায় থাকলে, কোন বিপদগ্রস্থ থাকলে। ভয়ের স্বপ্ন বেশি দেখে শিশুরা। আট থেকে বারো তেরো বয়সের এবং কখনো কখনো তারা স্বপ্নের মধ্যে চিৎকার করে উঠে।

কেন কিছু মানুষ স্বপ্ন ভুলে যায়?

কেউ কেউ স্বপ্ন মনে রাখতে পারে। কারও কারও আবার স্বপ্ন দেখার বিষয়টি মনে থাকলেও, কী দেখেছে তা আর মনে থাকে না। বিজ্ঞানীদের কাছে এর ব্যাখ্যা আছে। তারা বলছেন, কিছু মানুষ স্বপ্নের বিষয়বস্তু মনে রাখতে পারেন না। এর কারণ লুকিয়ে আছে তাদের ঘুমানোর পদ্ধতি এবং শরীরের কিছু রাসায়নিক পদার্থের কর্মপ্রক্রিয়ায়।

 এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, যখন আমরা ঘুমাই, তখন আমাদের মস্তিষ্ক চারটি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। চূড়ান্ত পর্যায়টির নাম হলো র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট বা আরইএম। এই পর্যায়ে ঘুমের সময় একজন ব্যক্তির চোখের পাতা দ্রুত কাঁপতে থাকে। এ সময় হৃদপিণ্ডের গতি ধীর হয় আসে এবং মানুষের শরীর আটোনিয়া নামের একটি অবস্থায় চলে যায়। এ সময় মানবদেহ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চলে যায় এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করা যায় না।

 এই পরিস্থিতিতে স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে মানব মস্তিষ্কের দুটি রাসায়নিক পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হলো—এসিটোকোলিন ও নোরাপিনাফ্রিন। এসিটোকোলিনের উৎপাদন যত বাড়ে, মস্তিষ্কের কর্মতৎপরতা তত বেড়ে যায়। স্বপ্নের বিষয়বস্তু একজনের কাছে কতটা স্পষ্ট হবে, সেটি নিয়ন্ত্রণ করে এসিটোকোলিন। আবার নোরাপিনাফ্রিন সতর্কতা ও মানসিক চাপের মাত্রা নির্ধারণ করে। এসিটোকোলিনের উৎপাদন যত বাড়ে, নোরাপিনাফ্রিনের পরিমাণ কমতে থাকে। নোরাপিনাফ্রিনের পরিমাণ কমতে থাকলে আমাদের স্বপ্নগুলো মনে রাখার সক্ষমতাও কমতে থাকে।

যখন আমরা হুট করে ঘুমিয়ে পড়ি বা অ্যালার্মের শব্দে লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠি, তখন এই দুই রাসায়নিকের পরিমাণ সামান্য পরিমাণে বেড়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের স্বপ্ন মনে রাখার সম্ভাবনা আরও কমে যায়। আবার অনেক সময় আমাদের মস্তিষ্ক সেই সব স্বপ্নই মনে রাখে না, যেগুলো যথেষ্ট উত্তেজনাকর নয়।

 যদি কেউ লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে দিনের কাজ শুরু করে দেন, তবে তার পক্ষে স্বপ্ন মনে রাখা সম্ভব হবে না। ছুটির দিনের প্রশান্তির ঘুমই স্বপ্ন মনে রাখার উৎকৃষ্ট উপায়।

By: Factarticle.com

Comments

Tags
Back to top button
Close
Close