সিগারেট আবিষ্কারের ইতিহাস এবং বেনসন অ্যান্ড হেজেস ও জন প্লেয়ার এর ইতিহাস | Factarticle.Com            
Factarticle.Com
smoking girl

সিগারেট আবিষ্কারের ইতিহাস এবং বেনসন অ্যান্ড হেজেস ও জন প্লেয়ার এর ইতিহাস সম্পর্কে জানুন

সিগারেটের ইতিহাস/তামাক আবিষ্কারের ইতিহাসsmoking history

Learn about the history of cigarette discovery and the history of Benson & Hedges and John Player

সিগারেট আবিষ্কারের ইতিহাস এবং বেনসন অ্যান্ড হেজেস ও জন প্লেয়ার এর ইতিহাস সম্পর্কে জানুন। 

সিগারেট

সিগারেট হলো একটি পণ্য যা ধূমপানের জন্য গ্রহণ করা হয়। সিগারেট তৈরি করা হয় মূলত তামাক পাতা সুন্দর করে কেটে পরিশোধন করার পর তার সাথে আনুষঙ্গিক কয়েকটি উপাদান মিশিয়ে কাগজে মোড়ানো সিলিন্ডারের ভিতরে ঢুকানো হয়ে থাকে। সাধারণত একটি সিগারেটের সিলিন্ডারের দৈর্ঘ্য ১২০ মিলিমিটার এবং ব্যাস ১০ মিলিমিটার হয়ে থাকে। সিগারেটের এক প্রান্তে আগুন জ্বালিয়ে অন্য প্রান্তে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয় এভাবেই মূলত সিগারেট পান করে থাকেন।

গাঁজা দিয়েও সিগারেট তৈরি হতে পারে।

তামাকের বৈজ্ঞানিক নাম কি?

তামাক ইংরেজী নামঃ Tobacco । বৈজ্ঞানিক নামঃ Nicotina tabacum/Nicotina rustica

সিগারেট আবিষ্কার হয় কত সালে?

প্রায় ৮০০০ বছর আগে পৃথিবীতে তামাক আবিষ্কার হয়।

সিগারেটের ইতিহাস/ সিগারেট আবিষ্কারের ইতিহাস

প্রায় ৮০০০ বছর আগে পৃথিবীতে তামাকের সন্ধান পাওয়া যায়। এই তামাক প্রথম দিকে ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করা হতো। খীষ্টপূর্ব ১০০০ শতাব্দির দিকে মায়ান সভ্যতার মানুষজন ধূমপান করা শুরু করে এবং তারা তামাকের সঙ্গে আরও গাছ-গাছড়া মিশিয়ে অসুস্থ ও আহতের সেবা করতো ঔষধ হিসাবে।

তবে ৬০০০ বছর আগে মধ্য আমেরিকায় তামাকের চাষাবাদ শুধু হয়।

মায়ান সম্প্রদায়ের মানুষেরা বিশ্বাস করতো ধূমপানের মাধ্যমে আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। আস্তে আস্তে সমগ্র আমেরিকায় তামাক গাছ সম্পর্কে অবহিত করায় এবং প্রচুর জনপ্রিয়তা পায়।

ইউরোপিয়ানদের সাথে তামাকের পরিচয়

বিখ্যাত নাবিক ও আবিষ্কারক কলম্বাস সর্বপ্রথম তামাক গাছ আবিষ্কার করেন।

তামাক নিয়ে যখন ভুল ধারনা

১৪৪২ সালে কলম্বাস যখন সান সালভাদরে গিয়ে পৌছান তখন সেখানকার লোকজন তাকে দেখে মনে করেন ঈশ্বর প্রেরিত স্বর্গীয় জীব। কলম্বাসকে তারা তাকে খুশি করার জন্য কাঠের তৈরী অস্ত্র ও শুকনো তামাক উপহার দেন।

কিউবায় তামাক/ ধূমপানের ইতিহাস

যদিও ডি যেরেয ( Rodrigo De Jerez) তিনি ছিলেন স্পানিশ কিন্তু তিনি কারনবসত কিউবায় আসেন এবং তিনি সর্বপ্রথম ধূমপান করেন। যখন তিনি ধূমপান করতেন তখন সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকতো। মানুষজন তাকে দেখে এবং তার ধূমপান করা দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতেন। অনেকেই নাক ও মুখ দিয়ে ধোয়া বের হওয়া দেখে মনে করতেন তাকে ভূতে ধরেছে। মূলত সেজন্যই তাকে সাত বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছিল। smoking cauese

তামাক যখন জনপ্রিয়তা পায়

তামাককে তখনও কেউ সিগারেট নামে চিনতো না।জনপ্রিয়তার সাথে সাথে তামাকের নামও সিগারেট নামে হয়ে যায়। ১৮১৫ সালের দিকে সিগারেট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সিগারেট জ্বালানো জন্য

১৮৫২ সালের দিকে সিগারেট জ্বালানোর সুবিধার জন্যে দিয়াশলাই তেরী হয়।

তামাক যখন মৃতের কারন

১৮২৮ সালের দিকে বিজ্ঞানিরা নিকোটিন আবিষ্কার করেন। ফলে সকলে বুঝতে পারে এটি একটি মারাত্মক বিষ। ১৯৫০ সালের দিকে সিগারেটের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সর্বপ্রথম প্রচরনা শুরু হয়। গবেষণায় জানা যে,ধূমপানের কারণে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা আছে।

সিগারেটকে নিয়ে যখন বিজ্ঞাপন

অনেক বাবসায়ি বেশি লাভের জন্য এবং মানুষের মাঝে জনপ্রিয়তার জন্য এটাকে প্রচার করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপন দিতে লাগলো।সিগারেটের যখন জনপ্রিয়তা পায় তখন এটির দামও হু হু করে বাড়তে থাকে।

সিগারেটের বিজ্ঞাপন যখন নিষিদ্ধ

পৃথিবীতে অনেক মানুষই আছে যে,আমাদের পৃথিবীটা যেন আরও একটু সুন্দর হোক।একটু উন্নত হোক। সবাই মিলে আমরা যেন সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করতে পারি।আমাদের সুন্দর সমাজ টা যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়। এই প্রত্যাশায় তারা কাজ করতে থাকে এবং যখন তারা জানলো যে ধূমপান এর কারণে মৃত্যু হতে পারে তখন তারা একটা সিদ্ধান্ত নিলো যে আমরা এই মরন ব্যাধি নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা জাগাবো।

এভাবেই প্রথম তারা ১৯৯৫ সালে ব্রিটিশ দ্বীপ গার্নসে সিগারেটের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়।

২০০৩ সালে প্যাকেটের গায়ে সতর্ককরন লেখা হয় এবং যেকোনো সিগারেট বাজারে আনলে তাকে এই নিয়ম টা মানতে বাধ্য থাকতে হবে।যেমনঃ Smoking Cause Cancer, Smoking Kills, Smoking Highly Injurious To Health, Smoking Harmful To Health

এভাবেই ধীরে ধীরে বিশ্বের সব দেশে ধূমপান এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে।

smoking elcttronic

ইলেকট্রনিক সিগারেট কি?/ ই সিগারেট কি? 

ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট হলো ব্যাটারি চালিত এক ধরনের যন্ত্র এবং ই সিগারেট লিকুইড।

ই-সিগারেটে ট্র্যাডিশনাল সিগারেটের মতো তামাক থাকে না। যদিও এই ইলেকট্রিক সিগারেটে রয়েছে তরল কিন্তু নিকোটিনও রয়েছে। নিকোটিন মিশ্রিত এই তরলই বাষ্পাকারে বেরিয়ে আসে।

গবেষণা জানা যায় যে, এই ইলেকট্রিক সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। ট্র্যাডিশনাল সিগারেটের মতো ইলেকট্রিক সিগারেট থেকে হতে পারে ক্যান্সার।

এই ইলেকট্রিক সিগারেটে অনেক পার্শ্বপতিক্রিয়া রয়েছে যেমনঃ বেশিদিন ধূমপান করলে মাদক এবং সিগারেটের মতোই আসক্তি হয়ে যায় এবং নেশাগ্রস্ত করে ফেলে।

শুধু তাই নয়, ট্র্যাডিশনাল সিগারেটের মতো ইলেকট্রিক সিগারেট থেকে হতে পারে ক্যান্সার। তার কারণ, এই ইলেকট্রিক সিগারেটের তরলেও রয়েছে নিকোটিন। ক্রমাগত শরীরে ঢুকতে থাকা এই তরল নিকোটিন কিন্তু সিগারেটের মতোই আপনাকে নেশাগ্রস্ত করে ফেলতে পারে। যদিও, সিগারেটের মতো তামাক থাকে না এই সিগারেটে। নিকোটিন মিশ্রিত তরলই বাষ্পাকারে বেরিয়ে আসে। ধূমপায়ীরা ও নেশাসক্তরা সিগারেটেরই স্বাদ পান এই ইলেকট্রিক স্মোকিংয়ে। গবেষকরা মনে করছেন, এই তরলে আসক্তি আরও বেশি। যা ভবিষ্যতে ফের ধূমপান বা অন্য কোনো নেশার দিকে আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে।

তাই এই ইলেকট্রিক সিগারেট কে কোনোভাবেই কম ক্ষতিকর বলা যাচ্ছে না।

বেনসন সিগারেট ইতিহাস

ধূমপান জগতের এক অনন্য পরিচিতির নাম হলো ‘বেনসন অ্যান্ড হেজেস’। বেনসন অ্যান্ড হেজেস সিগারেটের প্রতিষ্ঠানটি ১৮৭৩ সালে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হয়।এটি প্রতিষ্ঠা করেন রিচার্ড বেনসন ও উইলিয়াম হেজেস।
লোকো মুখে বেনসন আর হেজেস কে নিয়ে বেশ কিছু কাহিনী প্রচলিত আছে। কতটুকু সত্য তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও যুগ যুগ ধরে লোকমুখে কাহিনীটি অমর হয়ে আছে। মূলত কাহিনীটা রিচার্ড বেনসন ও উইলিয়াম হেজেসের প্রেমকে নিয়ে।

বেনসন ও হেজেস একে অপরের প্রেমে পড়েছিলো। বেন্সন ছিলেন ইংলিশ মেয়ে,আর হেজেস ছিলেন আমেরিকান ছেলে।কিন্তু তখনকার সময় আমেরিকানরা সভ্য হয়ে উঠতে পারে নি। মূলত এজন্যই তাদের পরিবার তাদের এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। লোকমুখে এটাই শোনা যায়,হতে পারে এটাই,হতে পারে অন্যকিছু।

বেনসন ও হেজেস অনেক চেষ্টা করে দুজনের পরিবারকে এক করার জন্য কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়। ফলে বাধ্য হয়ে তারা দুজনেই আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করে।

পরে তাদের পরিবার নিজেদের ভুল বুঝতে পারে এবং তাদের এই প্রেম ইতিহাসে যেন অমর হয়ে থাকে সেজন্য তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা সিগারেট তৈরি করবে যা যুগ যুগ ধরে মানুষের ঠোঁটে থাকবে আর মানুষ তাদের স্মরণে রাখবে।
বেন্সন এতটাই এখন জনপ্রিয় হয়েছে যে, দাম বাড়ানোর ফলেও অনেকের প্রিয় স্থান জুড়ে আছে। হুম আমিও বেন্সন ছাড়া অন্য কোন সিগারেট পান করি না।

গোল্ডলিফ সিগারেট এর ইতিহাস

বেন্সন এর পাশাপাশি গোল্ডলিফ ও জনপ্রিয়তায় কম নয়। গোল্ডলিফ প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেন জন প্লেয়ার John Player ।
1820 সালের মার্চ মাসে উইলিয়াম রাইট পশ্চিম লোথিয়ানের লিভিংস্টনের ক্রেগশিল শহরে একটি ছোট তামাকের কারখানা স্থাপন করেছিলেন । John Player ১৮৭৭ সালে একটি ছোট তামাক সেলিং ব্যবসা শুরু করেন এবং এটি একটি সমৃদ্ধ সিগারেট কোম্পানীতে পরিনিত হয়।
পরে জন প্লেয়ার ১৮৮৪ সালের ডিসেম্বরে মারা যান যখন তখন জন প্লেয়ার এন্ড সন্স পরিণত হয় এবং প্লেয়ারের ছেলে জন ডেন প্লেয়ার এবং উইলিয়াম গুডাক্রে প্লেয়ার দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।

জন প্লেয়ার গোল্ড লিফ নিজেই একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। জন প্লেয়ার ১৮৮৪ সালের ডিসেম্বরে মারা যান। পরে প্লেয়ারের ছেলে জন ডেন প্লেয়ার এবং উইলিয়াম গুডাক্রে প্লেয়ার দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল গোল্ডলিফ প্রতিষ্ঠানটি।

সিগারেটের অপকারিতা/ সিগারেট এর ক্ষতিকর দিক

ধূমপানের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস। এতে হার্ট অ্যাটাক, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ, এমফাইসিমা, ও ক্যান্সার বিশেষত ফুসফুস, এ আকান্ত্র হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

smoking effects

ধূমপানের ফলে যেসব হতে পারে

ক্যান্সার

তামাক ব্যবহারের প্রাথমিক ঝুঁকি হলো বিভিন্নরকম ক্যান্সার, বিশেষত ফুসফুস ক্যান্সার। একজন পুরুষ ধূমপায়ীর ক্ষেত্রে ৮৫ বছরের পূর্বে ফুসফুস ক্যান্সারে মৃত্যুর সম্ভাবনা ২২.১% একজন নারী ধূমপায়ীর ক্ষেত্রে তা ১১.৯%। অধূমপায়ীর ক্ষেত্রে এর সম্ভাবনা যথাক্রমে ১.১% ও ০.৮% প্রায়।

যৌন অক্ষমতা

অধূমপায়ীর তুলনায় ধূমপায়ীরা যৌন অক্ষমতায় ভোগার হার ৮৫ শতাংশ বেশি এবং এটি লিঙ্গ উত্থান অক্ষমতার (Erectile dysfunction) প্রধান কারণ।

মানসিক চাপ

ধূমপায়ীরা অপেক্ষাকৃত বেশি মানসিক চাপে ভুগেন। গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপায়ীর মানসিক চাপ আস্তে আস্তে বাড়ে এবং ধূমপান পরিত্যাগ করার পর তা ক্রমশ হ্রাস পায়।

যেসকল ব্যক্তি গৃহে পরোক্ষ ধূমপানের স্বীকার তাদের হৃদরোগের সম্ভাবনা ২৫-৩০% ও ফুসফুস ক্যান্সারের সম্ভাবনা ২০-৩০% বাড়ে। পরোক্ষ ধূমপানের জন্য প্রতিবছর প্রায় ৩৮,০০০ লোক মারা যায় যার মধ্যে ৩,৪০০ জন ফুসফুস ক্যান্সারে মারা যান।

এটির রিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সবাইকে বোঝাতে হবে এটির কোন উপকার নেই শুধু ক্ষতি ছাড়া। ধূমপান শুধুমাএ সাস্থ্যের ক্ষতি করেনা, ধূমপান অকাল মৃত্যু জন্যেও দায়ী। তাই সুস্থ ও সুন্দরভাবে বাচতে ধূমপান ত্যাগ করুন।

পোস্টটিতে অনেক তথ্য দেয়ার জন্য চেষ্টা করেছি,যদি পোস্টটি ভালো লাগে তাহলে কমেন্টে জানাবেন। 

By:Factaticle.com

Shahin Hasan

1 comment

Ads

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed

shares