Factarticle.Com
sleep

কেন আমরা রাতে ঘুমাই ? বকেয়া ঘুম আসলেই কি পুষিয়ে নেয়া যায় ?

Why do we sleep at night? Outstanding sleep really can be taken Wipe ?

sleep

আজকে আমরা ঘুম নিয়ে কয়েকটি পয়েন্ট আলোচনা করব।

চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ঘুম হচ্ছে সেই সময় যখন আমাদের চারপাশ নিস্তব্ধ এবং চারপাশ সম্বন্ধে অবহিত থাকি না তাকেই মূলত ঘুম বলি।

 

*রাতে আমরা কেন ঘুমাই?                                 ছবিটি সংগৃহীত

পর্যায়ক্রমে দিনরাত্রি সংঘটিত হওয়ার ফলে আমরা দিনের বেলায় কাজ করি এবং রাতের বেলা ঘুমাই।  নিশাচর প্রাণী ছাড়া প্রায় সব প্রাণীই এ রুটিন মেনে চলে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ৮০ শতাংশ ঘুম আমরা রাতেই ঘুমাই। 

ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় থাকে,কিন্তু শরীর নড়াচড়া করতে পারে। এই সময় হরমোন নি:সৃত হয় এবং দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে শরীর আবার সতেজ হয়ে ওঠে।

রাতে ঘুমানোর সঙ্গে আমাদের দৈহিক প্রক্রিয়া জড়িত। যেমনঃ

1.বায়োলজিক্যাল ক্লক: আমাদের দেহ একটা ঘড়ির মতো রুটিন মেনে চলে তাই মুলত দেহঘড়ি বলা হয়ে থাকে। আমাদের দেহঘড়ি ২৪-২৫ ঘণ্টার একটি রুটিন মেনে চলে। এই সময়টা আলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত। আলোয় আমাদের সংকেত দেয় রাত, দিন, অন্ধকার ও আলো সম্পর্কে। দেহঘড়ি অনুযায়ী আমাদের মস্তিষ্ক বলে দেয় এখন ঘুম আসার সময় এবং জেগে ওঠার সময়। 

2.চোখের মাধ্যমে: অ‍ামাদের চোখ দিন ও রাতের তফাত বুজতে পারে। ঘুম আসা ও জেগে ওঠার ব্যাপারটা মূলত নিয়ন্ত্রণ করে মেলাটোনিন নামের একটি হরমোন। যার নিঃসরণ আলোর উপস্থিতিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। আলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হচ্ছে সূর্য। সূর্যের আলোয় মেলাটোনিন সঠিকভাবে নিঃসৃত হতে পারে না। আলোর তীব্রতা থাকার কারণে মেলাটোনিন নিঃসৃত হতে পারে না ফলে ঘুম আসে না। কিন্তু আলোর তীব্রতা যখন থাকে না বা আলোর অনুপস্থিতিতে মেলাটোনিন হরমোন পর্যাপ্ত পরিমাণে নিঃস‍ৃত হতে পারে। ফলে ওই সময় আমাদের মন ও দেহ রিল্যাক্স মোডে অবস্থান করে এবং তখনই ঘুম পায়।

*বয়স অনুযায়ী কতটুকু ঘুম দরকারঃ

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের পরামর্শপত্র অনুযায়ী,

1.৬ থেকে ৯ বছর: রাতে অন্তত ৯-১১ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন, তবে নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঠিকঠাক ঘুমালেও সমস্যা হবে না। 

2.১০ থেকে ১৭ বছর: রাতে অন্তত  ৮-১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে  নিয়মিত ৭ ঘণ্টা ঘুমালেও চলতে পারে। আর বয়ঃসন্ধির সময়টাতে প্রায় ১১ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু ১১ ঘণ্টার চেয়ে বেশি ঘুমালে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

3.১৮ থেকে ৬৪ বছর: রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। নিয়মিত ৬ ঘণ্টা ঘুমালেও সব ঠিকঠাক থাকতে পারে। ৬৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সীদের জন্য ঘুমানো প্রয়োজন ৭-৮ ঘণ্টা।

*পর্যাপ্ত ঘুম না হলে যা হতে পারেঃ 

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের ১৮ জন গবেষক ঘুমের নির্দেশনা দিয়েছেন।

1.ঘুম কম হতে থাকলে আপনি ক্লান্ত হয়ে যাবেন। 

2.মনোযোগ কমে যাবে এবং বিষণ্নতা বাড়বে।

3.উদ্বেগও বেড়ে যেতে পারে।

4. যদি ঘুম কম হওয়াটা চলতেই থাকে, তাহলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, কম ঘুমানোর মতোই বেশি ঘুমানোটাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। 

*মার্কিন গবেষক দলটির অন্যতম সদস্য শিকাগোর লয়োলা ইউনিভার্সিটির লিডিয়া ডনকারলোস বলেছেন,

সাধারণত অনেকেরই  রাতে একটু দেরিতে ঘুম পায় এবং  দেরি করে ঘুম থেকে উঠতে চায়। কিন্তু যখনই ঘুমাক আর যখনই উঠুক, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমানোটা খুবই জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ছুটির দিনে ঘুম পুষিয়ে নেওয়ার চিন্তা অনেকেই করে বটে কিন্তু আসলে ‘বকেয়া ঘুম কখনোই পুষিয়ে নেওয়া যায় না’।

উপকৃত হলে factarticle এর সাথেই থাকবেন।

BY:factarticle.com

Shahin Hasan

Add comment

Topics

    Ads By Sidebar

    Ads

    Follow us

    Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

    Most discussed

    shares