Laugh the reason by arkimidis
Uncategorized

রাজার ভেজাল মুকুট ও আত্মভোলা আর্কিমিডিস এর কাণ্ড কারখানা

আর্কিমিডিসScientiest Arkimidis

রাজার ভেজাল মুকুট ও আত্মভোলা আর্কিমিডিস এর কাণ্ড কারখানা

The king’s adulterous crown and the self-styled Archimedes’ trunk factory

আজকে মনটা একটু ভালো সেজন্য এক প্রতিভাধর বিজ্ঞানীর মজার ঘটনা নিয়ে লিখতে বসলাম।
আসলে বিজ্ঞানীরা একটু-আধটু আত্মভোলা স্বভাবেরই হয়ে থাকেন।এক গবেষণায় জানা গেছে যে, মেধাবি আর প্রতিভাধর মানুষেরা স্বভাবতই আত্মভোলা হয়ে থাকেন।

যাই হোক মূল ঘটনায় শুরু করা যাক। ঘটনটা হলো আর্কিমিডিস এর মজার এক ঘটনা।

আর্কিমিডিস এর জীবন কাহিনী ও রাজার ভেজাল মুকুট

প্রাচীন গ্রিসের ছোট্ট দ্বীপ সিসিলি এর অন্তর্গত শহর সিরাকিউজ। সেইসময় সিরাকিউজের রাজা ছিলেন হিয়েরো।সেই সময় রাজা হিয়েরো দেব-দেবীকে খুশি করার জন্য বড় বড় সব উপহার উৎসর্গ করতো।
একবার তিনি ভাবলেন যে দেবীর নামে একটা স্বর্ণের মুকুট উৎসর্গ করবেন।

যেই কথা সেই কাজ,স্বর্ণকারকে মুকুট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হল। খুব সুন্দর করেই ঝলমলে সোনালি একটা মুকুট বানিয়ে দিল স্বর্ণকার। কিন্তু রাজা হিয়েরো বেশ চিন্তিত যে,স্বর্ণকার ব্যাটা খুব বদ সুযোগ পেলেই ভেজাল মেশায় বলে গুজব আছে। তিনি ভাবতে লাগলেন যে, সত্যিই সম্পূর্ণ সোনা দিয়ে বানানো তো? স্বর্ণকার ব্যাটা কিছু মেরে দেয়নি তো?

কিন্তু রাজার মনের খুতখুতি ভাবটা আর যায় না। এজন্য দরবারে আলোচনা করে ডাকা হলো এক প্রতিভাধর বিজ্ঞানী যার নাম আর্কিমিডিস।

আর্কিমিডিস এর জন্ম 

আর্কিমিডিস খ্রিস্টপূর্ব ২৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে, তিনি বিজ্ঞানকে এমনভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন যে সবাই ভাবতে শুরু করেছিল আর্কিমিডিস সব অসম্ভব কে সম্ভব করতে পারেন। অসংখ্য গাণিতিক তত্ত্ব ও মৌলিক কিছু যন্ত্রপাতির জনক তিনি। বিজ্ঞানকে যারা হাঁটি হাঁটি পা পা করে হাঁটতে শিখিয়েছেন।

প্রাচীন গ্রিসের সেই সময় তিনি চমৎকার চমৎকার কিছু আবিষ্কার করে মানুষকে অবাক করে দিতেন।

আর্কিমিডিসকে রাজা হিয়েরো বললেন,পারবে তো,এই মুকুট টা আসল না নকল বার করতে?
বেচারা আর্কিমিডিস ভাবলেন রাজাকে কি আর না বলা যায় এবং বললেন একটু সময় দিন,চিন্তা করে দেখি।

চিন্তামগ্ন হয়ে গেলেন। দিনরাত শুধু সেটা নিয়েই ভাবতে থাকলেন।বেচারা সারাক্ষণ চিন্তা করে জ্যামিতির অনেক কিছুই বার করেছেন। তাতে আর কাজ হলো না। সারাক্ষণ চিন্তা করতে করতে কোন উপায়ওই পেলো না। মনে মনে বললেন, কি এক ঝামেলায় পড়লাম?

আর্কিমিডিস যখন আত্মভোলা 

ভাবতে ভাবতে একদিন তিনি গোসলের জন্য গেলেন চৌবাচ্চায়। বিরাট এক চৌবাচ্চায় পানি রাখা আছে। কাপড় খুলে সেখানে তিনি নামলেন। নামামাত্রই ঝপাত করে পানি উপচে পড়লো।আর চিৎকার করে বললেন পেয়েছি।তার মাথায় যেন বুদ্ধির ঝিলিক খেলে গেলো এবং ‘ইউরেকা! ইউরেকা!’ বলে আনন্দে চিৎকার করতে করতে রাস্তায় চলে আসলেন। 

এবং রাস্তার সব লোকজন অবাক হয়ে দেখল, আর্কিমিডিস সম্পূর্ণ খালি গায়ে কাপড়চোপড় ছাড়া আনন্দে নাচতে নাচতে দৌরাচ্ছে এবং বলতেছে আমি পেয়েছি, আমি পেয়েছি। আর্কিমিডিস উত্তেজনার চটে কাপড় পরতে ভুলে গেছেন, গোসলখানা থেকে লাফিয়ে সোজা দৌর দিয়েছেন রাজ দরবারে।

এখানে আসলে আর্কিমিডিস এর মাথায় যেটা খেলেছিল সেটা হলো, দুটি বস্তুর ভর সমান হলেও যদি ঘনত্ব আলাদা হয় তাহলে যার ঘনত্ব কম তার আয়তন বেশি হবে। সেক্ষেত্রে অপসারিত পানির পরিমাণ বেশি হবে এবং একইসাথে বেশি ওজন হারাবে।

তার সমাধানটা ছিলো এমন যে- তিনি যখন চৌবাচ্চায় নামতে থাকেন তখন খেয়াল করেন যে তিনি যত গভীরে নামছেন পানি তত উপচে পড়ছে। মানে শরীরের যতোটুকু ডুবছে ততো পানি সরে যাচ্ছে। এবং পানিতে নামার পর নিজেকে হালকা মনে হচ্ছে।

এতে তিনি দুটি সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন। প্রথমত, কোনো বস্তুকে পানি বা যেকোনো তরলে ডোবালে তার আয়তনের সমান পানি অপসারণ করে।দ্বিতীয়ত, যতটুকু পানি অপসারিত হয় সে পরিমাণ ওজন কমে যায়।

এভাবে আর্কিমিডিস রাজাকে তার সমস্যার সমাধান দিলেন এবং তার প্রতিভার পরিচয় দিলেন।

হাহা,বিজ্ঞানীরা একটু-আধটু পাগলাটে না হলে কি চলে।

যদি পোস্টটি ভালো লাগে তাহলে  Factarticle.com এর সঙ্গেই থাকবেন।

BY:Factarticle.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *