plastic pollution
Environment

প্লাস্টিক দূষণ!৭০০ কোটি মানুষের অপার স্বপ্ন, একটি বিশ্ব, করবো না নিঃস্ব

প্লাস্টিক দূষণ ও প্রভাব এবং দূষণের প্রতিকার  Plastic Pollution

Plastic pollution! The dream of a million people, a world, will not be solitary

প্লাস্টিক দূষণ!৭০০ কোটি মানুষের অপার স্বপ্ন, একটি বিশ্ব, করবো না নিঃস্ব। 

আমাদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করা। বর্তমান সময়ে বিশ্ববাসীর সামনে অন্যতম একটা চ্যালেঞ্জ হলো এই প্লাস্টিক। আজকে আমার মাথায় একটা বিষয় বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে যে,পরিবেশ দূষণ নিয়ে/ প্লাস্টিক দূষণ প্রতিবেদন। তাই লিখতে বসলাম।আমরা কি পারি না আমদের পরিবেশ টাকে বাচাতে। 

‘৭০০ কোটি মানুষের অপার স্বপ্ন, একটি বিশ্ব, করি না নিঃস্ব’—স্লোগান সামনে রেখে এ বছরের পরিবেশ দিবস পালিত হয়। সম্পদের ভোগ ও উপভোগ যাতে পৃথিবীর প্রাণশক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং প্রকৃতিকে বিরূপ করে না তোলে, সে জন্য পৃথিবীবাসীকে সচেতন করতে হবে। 

প্লাস্টিক দূষণ (plastic pollution)

প্লাস্টিক দূষণ হলো পরিবেশ কর্তৃক প্লাস্টিক পদার্থ যা পরবর্তীতে বন্যপ্রাণ ও মানবজাতীর ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে৷

আমরা আজকের দিনে তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে সবকিছুই আমাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু তারপরও কিছু অমীমাংসিত সমস্যার সম্মুখীন হয়ে চলছি, যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে আমাদের থমকে যেতে হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্বের বড় বড় নেতৃবৃন্দ আজ পৃথিবীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবাই একসাথে হাত মেলাচ্ছেন। আর সেই প্রধান সমস্যা হলো “জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা”।এসব যতটা না প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট তার থেকেও বেশি মানুষ করছে।

নিয়মিত প্লাস্টিক পদার্থের ব্যবহার প্লাস্টিক দূষণের মাত্রাকে অতিরিক্ত বাড়িয়ে তুলছে৷ পলিথিন ব্যাগ, কসমেটিক প্লাস্টিক, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যের বেশিরভাগই পুনঃব্যাবহার হয় না৷ এসব পরিবেশে থেকে বর্জ্যের আকার নেয়৷

মানুষ সচেতন না থাকায় প্লাস্টিক দূষণ হচ্ছে ৷প্লাস্টিক এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যা পচতে অথবা কারখানায় পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করতে প্রচুর সময় লাগে ৷ তাই একে “অপচ্য পদার্থ” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

প্লাস্টিক দূষণের স্লোগান

বিশ্ব পরিবেশ দিবস হলো ৫ জুন। দিবসটির মূলভাব হলো,আসুন প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি এবং প্লাস্টিক পুনঃব্যবহার করি, না পারলে বর্জন করি।

প্লাস্টিক দূষণের ফলাফল

গ্রিনহাউস প্রক্রিয়ায়(greenhouse process)

প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থগুলো তৈরি করা হয় জীবাশ্ম জ্বালানী দিয়ে যেমন- তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসকে ব্যবহার করে। যখন তেল বা খনিজ পদার্থ ভূ-ত্বক হতে নিষ্কাশন হয় তখন বিপুল পরিমাণে দূষিত পদার্থের নির্গমন ঘটে।

যেমনঃ কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, ওজোন, বেনজিন এবং মিথেন গ্যাস।আবার আমরা যে সমস্ত প্লাস্টিক বোতল ব্যাবহার করি তার মূল উপাদান হলো পলিইথিলিন।

গবেষণায় দেখা গেছে, এক আউন্স পলিইথিলিন তৈরি করতে গেলে পাঁচ আউন্স কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়ে থাকে। অর্থাৎ আমরা যে পরিমাণ প্লাস্টিকদ্রব্য প্রস্তুত করছি তার চেয়ে বেশি পরিমাণ দূষিত পদার্থ বায়ুতে নির্গমন করছি।
আমরা সবাই জানি যে, এসব পদার্থের জন্যই মূলত গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। এভাবেই গ্রিনহাউস প্রক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যে কারণে হিমালয়ের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নিচে অবস্থানরত দেশগুলোর প্রায় অনেক অঞ্চলই সমুদ্রের তলদেশে চলে যাবে।

অতএব, আমরা যদি এই গ্রিনহাউস প্রক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে চাই তাহলে আমাদের প্লাস্টিক এর ব্যবহার কমাতে হবে।Enviroment Bottle Pollution

সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ ( plastic pollution in the ocean)

সমুদ্রে প্লাস্টিক এর ব্যবহার ব্যাপক। আমরা যা কিছু ব্যাবহার করি তার সব বর্জ্য গুলো সমুদ্রে ফেলে দেই। এভাবে গবেষণায় পাওয়া যায় যে, পৃথিবীতে উৎপাদিত মোট প্লাস্টিকের শতকরা ২ ভাগ জমা হচ্ছে মহাসাগরে।২০১২ সালের এক গবেষনায় জানা যায় যে, সমগ্র বিশ্বের সমুদ্রে প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য রয়েছে।

১৯৫০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তৈরি হয় ৮.৩ বিলিয়ন টন প্লাস্টিক। এর মধ্যে কিছু পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে এবং বেশিরভাগই যাচ্ছে মহাসাগরে। যার ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্রের ওপর এর প্রভাব দিনের পর দিন ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে।

২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল The Seattles Time (দ্য সীটল টাইম) নামক দৈনিকে প্রকাশিত এক খবর বিশ্ববাসীকে জাগিয়ে তোলে। সমুদ্র সৈকতে একটি মৃত বিশালদেহী তিমিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে এই তিমিকে গবেষণা করে দেখা যায় যে, এর পাকস্থলী ভর্তি বহু প্লাস্টিক পদার্থ দিয়ে। এজন্য গবেষকরা ধারণা করেন এসব প্লাস্টিক পদার্থই তিমিটির মৃত্যুর কারণ।

পরিযায়ী পাখিদের উপর প্লাস্টিকের প্রভাব(Plastic effects on mature birds)

সামুদ্রিক পাখির পেটে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক পাওয়া যায় ৷বাংলাদেশে বিশেষ করে শীতকাল মৌসুমে পৃথিবীর নানা দেশ থেকে পরিযায়ী পাখি আসে বেড়াতে। এসব পাখি আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের সরকার কিছু মৌসুমে পাখি শিকার নিষিদ্ধ করেছে শুধু তাদের অবাধ প্রজননের জন্য। কিন্তু তারপরও দেখা যায়, দিন দিন এসব পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

কারণ সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিককে না চিনতে পারায় পাখিরা গ্রহন করে ফেলে ৷ গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ পাখি প্লাস্টিক খাওয়ার কারণে মারা যাচ্ছে। ২০০৪ সালে গবেষণার মাধ্যমে জানা যায় যে “সামুদ্রিক গিল” এর পেটে ৩০ খন্ডের সম পরিমাণ প্লাস্টিক পাওয়া যায় ৷

বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে, ২০৫০ সালে প্রায় ৯৯ শতাংশ পরিযায়ী পাখির পাকস্থলীতেই প্লাস্টিক পাওয়া যাবে।
প্লাস্টিক পদার্থ থেকে বিষাক্ত রাষায়নিক পলিক্লোরিনেটেড বায়োফেনল নির্গত হয় যার জন্য দেহের বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মানুষের উপর প্লাস্টিকের প্রভাব(The effect of plastic on humans)

প্লাস্টিক মানবস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।প্লাস্টিক উৎপাদনে ব্যবহৃত উপাদান মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর করে। তিন পদ্ধতিতে প্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করে থাকে। যেমনঃবাতাস ও পানি এবং খাবার। যার ফলে ক্যান্সার, জন্মগত ত্রুটি, জেনেটিক পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস, আলসার, বধিরতা, চর্মরোগ, লিভার সমস্যা হতে পারে।

প্লাস্টিক দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। সাধারনত প্লাস্টিকে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক রঞ্জক মেশানো থাকে। এসকল রঞ্জক কারসিনজেন হিসেবে কাজ করে ও এন্ডোক্রিনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পরিবেশ এর উপর প্লাস্টিকের প্রভাব(The effect of plastic on the environment)

বিভিন্ন ভাবে আমাদের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হলো প্লাস্টিক দূষণ। প্লাস্টিক বর্জ্য বিভিন্ন উপায়ে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে ৷

আমরা জানি, যে জিনিস পরিবেশে পচতে বেশি সময় নেয় তা পরিবেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তেমনি প্লাস্টিক অপচ্য পদার্থ যা পরিবেশের জন্য খুবই বিপদজনক ৷বিভিন্ন ভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের ভারসম্যকে নষ্ট করছে৷River Of Pollution

মাটিতে প্লাস্টিক দূষণ(Plastic contamination in the soil)

মাটিতে প্লাস্টিক পচতে সময় লাগে ৪০০ বছর। এভাবেই পানি গ্রহনের সাথে সাথে প্রতিনিয়ত আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি ৷ মাটিতে বিভিন্ন ধরণের অনুজীব বাস করে যা প্লাস্টিক অণুর ভাঙনের মাধ্যমে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করে ৷ অপরদিকে মিথেন এক প্রকার গ্রীণহাউজ গ্যাস ৷যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী।

এগুলো ব্যবহার করলে হাঁপানি, ক্যান্সার জন্মত্রুটি, হরমোন পরিবর্তন, শুক্রাণু সংখ্যা হ্রাস, বন্ধ্যাত্ব, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

প্লাস্টিক এর প্রভাব 

পানির বোতল তৈরি হয় বিসফেনল নামক প্লাস্টিক থেকে। এটি ব্যবহার করলে ক্যান্সার, প্রতিবন্ধী প্রবণতা, দ্রুত বয়ঃসন্ধি, স্থূলতা, ডায়াবেটিস প্রভৃতি রোগ হতে পারে।

ঢাকা শহরে প্লাস্টিকের কুপ্রভাব(Plastic mismanagement in Dhaka city)

ঢাকা শহরে প্রতিদিন ১ কোটি ৪০ লাখ পলিব্যাগ পরিত্যক্ত হয়।যা জলাধার, নদী ও মহাসাগরে গিয়ে জমা হয়। তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বিশ্বের সর্বাধিক ২০টি প্লাস্টিক দূষণকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে চীন ও ইন্দোনেশিয়া।

বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ যা ২০০২ সালে প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে এবং ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সমুদ্র সম্মেলনে ২০২৫ সালের মধ্যে স্বেচ্ছায় সামুদ্রিক দূষণ কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

বিশ্ব ব্যাপী প্লাস্টিক প্রভাব

১৩ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক প্রতিবছর সাগরে পতিত হওয়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে সাগরে মাছের তুলনায় প্লাস্টিকের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। পৃথিবীব্যাপী প্রতি মিনিটে ১০ লাখ প্লাস্টিক বোতল সাগরে পতিত হয়, যা জলজ প্রাণীর জন্য হুমকি। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের অধিকাংশ মাটির সঙ্গে মিশে যায় না এবং কিছু কিছু মিশলেও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

জলবায়ু পরিবর্তনে প্লাস্টিকের কুপ্রভাব

দেশে প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহার দরকার, কারণ এটি মানুষ, প্রাণী এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পয়োনিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বন্যার কারণ হিসেবে দেখা দেয়; সাগর ও নদীর তলদেশে জমার কারণে মাটি, পানি, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং সামুদ্রিক জীবের ক্ষতি করে এবং যেসব প্লাস্টিক পুনরায় ব্যবহারের অনুপযোগী, তা মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ করে; মাটিতে প্লাস্টিকযুক্ত হওয়ার কারণে বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা আরও ব্যয়বহুল হয়।

প্লাস্টিক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রতিবছর প্লাস্টিক উৎপাদনে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ব্যবহার করা হয়। এক কেজি প্লাস্টিক উৎপাদনে প্রায় দুই থেকে তিন কেজি পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উঞ্চায়নে ভূমিকা রাখে।

প্লাস্টিক দূষণে বাংলাদেশের অবস্থান

২০১৮ সালে বিশ্বের সর্বাধিক ২০টি প্লাস্টিক দূষণকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে চীন ও ইন্দোনেশিয়া। বর্তমানে বাংলাদেশে প্লাস্টিক দ্রব্যাদির বাজার প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪ হাজার প্লাস্টিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রায় ২০ লাখের বেশি লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

ঢাকা শহরে প্রতিদিন ১ কোটি ৪০ লাখ পলিব্যাগ পরিত্যক্ত হচ্ছে আর তা জলাধার, নদী ও মহাসাগরে গিয়ে জমা হচ্ছে।দেশের বর্জ্যের প্রায় ৮ শতাংশ হলো প্লাস্টিক। এর চার ভাগের এক ভাগ গিয়ে পড়ে সাগরে ও নদীতে।
প্রতিবছর প্লাস্টিক উৎপাদনে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ব্যবহার করা হয়। 

প্লাস্টিক দূষণের প্রতিকার

ভস্মীকরণ(To burn)

মেডিকেল সামগ্রী এর মধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ল্যান্ডফিলের বদলে চুল্লিতে ভস্মীভূত করা হয়, যাতে রোগের ব্যাপ্তি কমে আসে। এর ফলে মেডিকেল সামগ্রী থেকে আসা প্লাস্টিক বর্জের পরিমাণ প্রচুর পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।আমাদের বিশ্বে অনেক সচেতন মানুষ রয়েছে, যার জন্য হয়তো আজকে আমাদের এই পৃথিবীটা টিকে আছে।

ক্ষয়ক্ষতি(Damage)

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তার একটি বাংলাদেশ।বাংলাদেশে প্রতি বছর যতো মানুষের মৃত্যু হয় তার ২৮ শতাংশই মারা যায় পরিবেশ দূষণ জনিত অসুখবিসুখের কারণে। কিন্তু সারা বিশ্বে এধরনের মৃত্যুর গড় মাত্র ১৬ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছে, দূষণের কারণে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

‘পরিবেশ দূষণে এক বছরে মারা গেছে ৮০ হাজার মানুষ’প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবেশ দুষণজনিত কারণে বাংলাদেশে যেখানে ২৮ শতাংশ মৃত্যু হয় সেখানে মালদ্বীপে এই হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ আর ভারতে ২৬ দশমিক ৫।Polluted Causes Dead Fish

প্লাস্টিক দূষণে ঝুঁকি 

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে নারী ও শিশুরা। বাংলাদেশের পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা এবং প্রিভেনটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলছেন, পরিবেশ দূষণের বেশ কয়েকটি ভাগ রয়েছে। যেমন বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, খাদ্য দূষণ ইত্যাদি রয়েছে। এর সবগুলোর ফলেই কোন না কোনভাবে মানুষ ক্ষতির শিকার হয়। 

সিআরআই-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রতিগ্রস্ত হয়েছে হন্ডুরাস ও মিয়ানমার।

২০ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নানা কুফলে মারা যায় ৫ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (পিপিপি তে) ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

পরিবেশ দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি

১৯৯৬ থেকে ২০১৫ সাল, এই ২০ বছরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে মিয়ানমার ৷ চতুর্থ অবস্থানে আছে নিকারাগুয়া, পঞ্চম ফিলিপাইন ও ষষ্ঠ অবস্থানে বাংলাদেশ

মিয়ানমারে ২০০৮ সালের ‘ঘূর্ণিঝড় নার্গিস’-এর কারণে যে পরিমাণ মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে, তা গত দুই দশকের অন্যান্য ঘটনার চেয়ে ৯৫ ভাগ বেশি৷

হন্ডুরাসে

হন্ডুরাসে ১৯৯৮ সালের ‘হ্যারিকেন মিচ’-এর কারণে ৮০ ভাগের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়৷ ১৯৯৬ থেকে ২০১৫ সাল এই ২০ বছরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে হন্ডুরাস।

থাইল্যাণ্ডে

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় ১০তম অবস্থানে থাকা থাইল্যাণ্ডে ২০১১ সালের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়৷ ২০১২ সালের ‘হ্যারিকেন প্যাট্রিসিয়া’র ক্ষয়ক্ষতি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলে৷ এই সময়ে সাইক্লোনের ঘটনা ঘটেছে ২৭টি৷

আজকের পোস্টটা এজন্য লিখছি যেন আমরা আমাদের পরিবেশটাকে বাচাতে পারি। পোস্টটি  পরে যদি একজন অন্তত পরিবেশটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে তাহলে আমার এই পোস্টটা সার্থক হবে।এটাই আমার বড় পাওয়া। 

পোস্টটিতে অনেক তথ্য দেয়ার চেষ্টা করেছি এবং পরিবেশ বাচাতে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

পোস্টটি ভালো লাগলে Factarticle.com এর সঙ্গেই থাকবেন।

BY:Factarticle.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *