rani
Amazing News

প্রাচীনকালে গর্ভধারনের কয়েকটি আচার্য পরীক্ষা ও বর্তমান পরীক্ষা

In ancient times, some of the most basic tests of pregnancy and current tests

pregnantগর্ভাবস্থা প্রতিটি মহিলার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর । বর্তমানে প্রায়ই গর্ভধারণের পরীক্ষা কিটগুলি ব্যবহার করে মহিলারা গর্ভবতী হয়েছেন কি না তা জানতে পারেন।

কিন্তু  প্রাচীনকালে গর্ভধারনের ব্যাপারে নিশ্চিত হবার জন্যে আমাদের পূর্বপুরুষেরা কী কী পদ্ধতি ব্যবহার করতেন?

আগেকার দিনে একজন নারী গর্ভবতী কিনা তা নিশ্চিত হতে প্রকৃতির উপরেই নির্ভর করতে হত. যা কিনা অনেক ধৈর্য সাপেক্ষ ।

*ঐতিহাসিক কয়েকটি পরীক্ষাঃ

১. গম আর বার্লি বলবে গর্ভবতী কি নাঃ

pregnant

ছেলে কিংবা মেয়ে হওয়ার ব্যাপারটা ব্যাখ্যা না করা গেলেও বীজ থেকে চারা বের হওয়াটা যে গর্ভধারণের সাথে সম্পর্কিত তা আবিষ্কার হয়েছে ১৯৬৩ সালে। গর্ভবতী নারীর মূত্রে থাকা অত্যাধিক ইস্ট্রোজেন বীজ থেকে চারা হবার জন্যে সহায়ক- ইংল্যান্ডের একদল গবেষক এমনটাই মত দিয়েছেন।

২. পি ফর পিঁয়াজওঃ

 

women

গর্ভধারণ নিশ্চিতকরণে  মিশরীয়দের মত প্রাচীন গ্রীকেরাও পিছিয়ে ছিল না। গ্রীকদের বরাবরই হিউম্যান এনাটমিতে ভাল দখল ছিল। সেই এনাটমির উপর ভর করেই তারা মিশরীয়দের থেকেও অদ্ভুত পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিল। পদ্ধতিটি ছিল , “কোন নারী যদি সন্দেহ করে সে গর্ভবতী, তবে তা নিশ্চিত হতে যেন সে ঘুমানোর আগে যোনীপথে পিঁয়াজ ঢুকিয়ে রাখে। যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে তার মুখে পিঁয়াজের গন্ধ পাওয়া যায় তবে সে গর্ভবতী নয় আর যদি পাওয়া না যায় তবে সে গর্ভবতী।”

এইটার ব্যাখ্যা গ্রীকেরা দিয়েছিলেন  যে, “মুখ থেকে যোনী পর্যন্ত পথখানা একটা টানেলের মত। এর মাঝখানে কিছু থাকলে অর্থাৎ গর্ভবতী হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে পিঁয়াজের ঝাঁঝালো গন্ধ মুখে পৌঁছুবে না, অন্যথায় পৌঁছুবে। 

৩. পিস প্রফেটসঃ

men                                                                                  ইউরোপে ১৬ শতকে একদল মানুষ নিজেদেরকে ‘পিস প্রফেটস’  বলে পরিচয় দিত। তারা দাবী করত, মূত্র দেখেই তারা একজন নারী গর্ভবতী কিনা তা বলে দিতে পারে! তারা মূলত মূত্রের সাথে সামান্য মদ মিশিয়ে তা দেখে বলতে পারত গর্ভবতী কিনা।

পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা এটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে- গর্ভবতীদের মূত্রে থাকা অধিক প্রোটিন মদের সাথে বিশেষ বিক্রিয়া করত, যা দেখে সে নারী গর্ভধারণ করেছে বলতে পারাটা  কঠিন কিছু ছিল না।

৪. চোখ দেখে যায় চেনাঃ

 

men

 প্রখ্যাত চক্ষুবিদ ডা. জ্যাকিস গিলিমে বলেন, নারীর চোখ দেখে সে গর্ভবতী কিনা তা বলে দেয়া সম্ভব। একজন সন্তানসম্ভবা নারীর চোখের পিউপিল বা তারারন্ধ্র স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট থাকবে এবং চোখের আশেপাশের শিরাগুলিও সুস্পষ্ট হবে- এমনটাই দাবি করেন তিনি।

তার এই ব্যাখ্যার অবশ্য বিপক্ষে মতই বেশি পাওয়া যায়। তবে এটা মেডিকেল সায়েন্সে স্বীকৃত যে গর্ভকালীন অবস্থায় চোখের দৃষ্টিতে পরিবর্তন আসাটা অস্বাভাবিক নয়। এই কারণে ‘কেবল গর্ভাবস্থায়’ চোখের দৃষ্টিতে সমস্যা মনে হলে কোনরকম ওষুধপথ্য নিতে মানা করেন চিকিৎসকরা।

৫. চ্যাডউইক’স টেস্টঃ

 

read১৮৮৬ সালে আমেরিকান  ডা. জেমস চ্যাডউইক নামের একজন চিকিৎসক প্রথম মত দেন যে, গর্ভকালীন ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম সপ্তাহে যোনীপথে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। এতে করে সেখানে কোষগুলি গাঁঢ় নীলাভ অথবা লালচে বেগুনি মত রঙ ধারণ করে।

সেই বিজ্ঞানীর নামানুসারে এই পদ্ধতিটির নাম রাখা হয় ‘চ্যাডউইক’স সাইন টেস্ট’। সেকালে অবশ্য এই পদ্ধতির অত জনপ্রিয় হতে পারেনি। এর কারণ ছিল দুইটি। এক হচ্ছে রঙ এর ভিন্নতা বেশ সূক্ষ্ম বিধায় কেবল অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরাই কেবল বুঝতে পারতেন। আর দুই হচ্ছে সেই সময়ে খোদ পশ্চিমা সমাজও ছিল যথেষ্ট রক্ষণশীল; তাই নারী চিকিৎসক যেমন ছিল না, নারীদের চিকিৎসাও এখনকার মত এত সহজ ছিল না।

৬. খরগোশ বলে দিবে গর্ভবতী কিনা ;

 

rabbit১৯২০ সালে দুইজন জার্মান বিজ্ঞানী আশেইম ও জোনদেক মত দেন যে, গর্ভবতী নারীদের মূত্রে এমন একটি হরমোন আছে যা কিনা খরগোশের গর্ভাশয় এর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোনটি আসলে HCG (হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন), হিউম্যান প্রেগনেন্সি কিটে যার মাধ্যমে গর্ভধারণ নিশ্চিত করা হয়।

এটি পদ্ধতিটি কাজ করে – এক সিরিঞ্জ মূত্র একটি খরগোসের শরীরে প্রথমে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে পুশ করানো হতো। এর ৫ দিন পর একে মেরে ফেলে দেখা হত এর ডিম্বাশয়ের বৃদ্ধি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কিনা। এই পদ্ধতিতে ইঁদুরও পরীক্ষা করা হত এবং একইরকম ফল পাওয়া যেত। পরে অবশ্য বিজ্ঞানীরা ব্যাঙ ব্যবহার করতেন। ব্যাঙ এর ক্ষেত্রে সুবিধা ছিল যে ব্যাঙকে মেরে ফেলতে হত না। একজন নারী গর্ভবতী হলে তার মূত্র ব্যাঙের শরীরে প্রবেশ করানোর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ব্যাঙটি ডিম দিত।

* বর্তমান সময়ে প্রেগন্যান্সি কিট এর পরীক্ষাঃ

 

test

বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ‘প্রেগন্যান্সি কিট’ মূত্রে থাকা HCG হরমোনের উপস্থিতি বলে দেয়, যে হরমোন কেবল গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের শরীরে উৎপন্ন হয়। ১৯২০ সালে র‍্যাবিট টেস্টের হাত ধরেই পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে উদ্ভাবিত হয় এই প্রেগন্যান্সি কিট।

 প্রেগন্যান্সি কিট আবিষ্কার হয় আল্ট্রাসনোগ্রাফি আবিষ্কারেরও আট বছর পরে। এরপর ১৯৮০ সালের পর থেকে বিশ্বব্যাপী এর বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়।

মেডিকেল সায়েন্সে , P for Pee and P for Pregnancy. অবাক করার বিষয় মিশরীয়রা সেটি আবিষ্কার করেছিল আজ থেকে প্রায় তিন হাজার বছর আগেই! এরপরে বিভিন্ন সভ্যতায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

By: Factarticle.com

ভালো লাগলে=কমেন্ট এ জানাবেন 

One Reply to “প্রাচীনকালে গর্ভধারনের কয়েকটি আচার্য পরীক্ষা ও বর্তমান পরীক্ষা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *