Violence & Rights

পশুদের শিকলে বেঁধে হাটে বেচার মতো,দর হেঁকে মেয়েদের বিক্রি করা হয়ঃব্রাইড মার্কেট!

পশুদের শিকলে বেঁধে হাটে বেচার মতো,দর হেঁকে মেয়েদের বিক্রি করা হয়ঃব্রাইড মার্কেট!

Animals are chained to the chains of animals, bargains are sold to girls: Bride Market!

adult girls market

ব্রাইড মার্কেট

বসন্তের শুরুতে মূলত এই বউ কেনাবেচা হয়,এটা মেলা নয় আসলে ‘ব্রাইড মার্কেট।’ বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় বউ কেনার হাট। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই ঐতিহ্য এখানকার এক সম্প্রদায়ের। এই সম্প্রদায়কে স্থানীয়রা বলে কালাইদঝি। তরুণী ও কুমারী মেয়ের বর খোঁজার জন্যই এমন হাটের আয়োজন। রীতিমতো দাম দিয়ে কালাইদঝিরা তাদের মেয়েদের এই হাটে বিক্রি করে। ১৩-২০ বছরের মেয়েদের চাহিদা বেশি, দামও চড়া। বয়স বাড়লে দরও কমে।

কালাইদঝি

‘দ্য ট্রাকিস্কি কালাইদঝি’ হলো পূর্ব ইউরোপের এক প্রাচীন জনগোষ্ঠীর নাম। গোঁড়া খ্রিষ্টান এই জনজাতিরা রোমা সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। মূলত জাজাবর জনজাতি। এক জায়গায় থিতু হওয়া এদের অভ্যাসে নেই। পূর্ব ইউরোপে এই সম্প্রদায়ের প্রায় ১৮,০০০ মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন।

তামার জিনিসপত্র তৈরি করাই এদের পেশা। তবে বর্তমানে কালাইদঝিরা নানা পেশার সঙ্গে যুক্ত। অভাব এদের নিত্যসঙ্গী। তাই পছন্দের জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার জন্য এমন মেলারই আয়োজন করে থাকে কালাইদঝিরা। এটা তাদের রোজগারের একটা পন্থাও

adult girls

ট্রাডিশনাল

ব্রাইড মার্কেট বছরে চার বার হয়।সকাল হতেই মেয়েদের সাজিয়ে গুছিয়ে বাবা-মায়ের হাজির হয়ে যায় মেলার মাঠে। মঞ্চও তৈরি থাকে। যারা একটু বেশি গাঁটের কড়ি খসায়, তারা মেয়েদের সার বেঁধে মঞ্চের উপর তুলে দেয়। তার পর শুরু হয় দর হাঁকা। মেলায় বউ কিনতে নানা জায়গা থেকে হাজির হয় পুরুষেরা। নিলামের মতো হাঁকডাক করে যে পুরুষ বেশি দাম দেয়, তার হাতেই মেয়েকে তুলে দেয় তাদের অভিভাবকরা।

তরুণীদের সাজ পোশাকও দেখার মতো। ব্রাইডাল স্কার্টের সঙ্গে ঝলমলে টপ থেকে ট্রাডিশনাল, পোশাকের বাহারও রকমারি। আধুনিক ওয়েস্টার্ন আউটফিটেও স্বচ্ছন্দ অনেকে। পোশাকের সঙ্গে নজর কাড়ে তাদের গয়না আর চুলের বিন্যাস। 

 লারসন ও অ্যালিস

ডকুমেন্টারি করার জন্য দুই চিত্রপরিচালক মিলেন লারসন ও অ্যালিস স্টেইন বুলগেরিয়া গেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এখানকার মেয়েদের অভিজ্ঞতা ভয়াবহ। বাইরে থেকে যতটা চাকচিক্য, আমোদ নজরে পড়ে ভিতরে ততটা নয় মোটেই। অনেকটা জোর করেই মেয়েদের সাজিয়ে মেলায় নিয়ে আসে তাদের বাবা-মায়েরা।

আড়াই লক্ষ টাকা থেকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা অবধি মেয়েদের দর ওঠে। কমবয়সী নীল চোখের সুন্দরীদের দাম আরও বেশি। অনেক মেয়েই জানিয়েছে, পাত্র পছন্দ না হলেও দাম বেশি দিলে তার হাতেই হাত রাখতে হয়। অপছন্দের মানুষের সঙ্গে কাটাতে হয় সারাটা জীবন। বিয়ের আগে প্রমাণ দিতে হয় সে ভার্জিন কিনা। মিথ্যা প্রমাণিত হলে চরম তীরস্কারের পাশাপাশি জরিমানাও দিতে হতে পারে তার পরিবারকে।

adult girls market

বুলগেরিয়া

বুলগেরিয়ার একজন নৃতত্ত্ববিদ ভেল্কো ক্রুস্টেভ এই মেলা সম্পর্কে বলেছিলেন,  এখানে জীবনসঙ্গী খোঁজার মূলমন্ত্র হল ‘অর্থ’। পশুদের শিকলে বেঁধে হাটে বেচার মতো, দর হেঁকে মেয়েদের বিক্রি করা হয়। তাঁর কথায়, বউ কেনার নামে পুরুষরা আসলে মেয়েদের সম্মান কিনে নেয়। সংস্কৃতির আড়ালে চলে ব্যবসায়িক লেনদেন।

এশীয় দেশ থেকে চীন

কমপক্ষে পাঁচটি এশীয় দেশ থেকে চীনে বিক্রি করা হয় বউ। পাকিস্তান চিনের সীমান্তবর্তী দেশ হওয়ায় সেখানে এর পরিমাণটা বেশি। নারী পাচারের অন্যতম পন্থাই হল নারীদের বিয়ে করে তারপর তাদের পাচার করে দেয়া।

পাকিস্তান থেকে চীনে

সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে চীনে নারী পাচারের সংখ্যা বাড়ছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারীদের পাচার করা হয়। এসব নারীর শেষ পরিণতি হচ্ছে পতিতালয়। পুলিশের কাছে ধরাপড়া নারী পাচারকারীর গ্যাংয়ের সদস্যরা স্বীকার করেছে যে, তারা কমপক্ষে ৩৬ পাকিস্তানি মেয়েকে চীনে পাঠিয়েছে। চীনে তাদের পতিতাবৃত্তির জন্যই ব্যবহার করা হয়।

পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানবপাচারের তদন্তে নেমে তারা যৌনবৃত্তির চক্রের ১২ সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এই দলের সদস্যরা পাক তরুণীদের চীনে পাচার করত।

adult girls market

গ্রেফতার হওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে আটজন চীনের নাগরিক ও চারজন পাকিস্তানের। পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএএ) শীর্ষ কর্মকর্তা জামিল আহমেদ বলেন, পাকিস্তানি নারীদের চীনে পাচার করে পতিতাবৃত্তির কাজ করানোর খবর পেয়ে আমরা এসব গ্যাংয়ের ওপর নজর রাখছিলাম। তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি গ্যাং এই কাজ করে।

তবে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ হচ্ছে পাকিস্তানি খ্রিস্টান সংখ্যালঘুহিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছিল, চীনের পাক নারীদের পাচারের সাম্প্রতিক রিপোর্ট যা, তাতে পাকিস্তানকে সতর্ক হওয়া উচিত।

পোস্টটি সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিবেন এবং Factarticle.com এর সঙ্গেই থাকবেন। 

BY:Factarticle.com

Comments

Tags
Back to top button
Close
Close