চায়ের ইতিহাস ও টি ব্যাগ এর সেকাল একাল | Factarticle.Com            
Factarticle.Com
tea

চায়ের ইতিহাস ও টি ব্যাগ এর সেকাল একাল

চায়ের ইতিহাসtea

The history of tea and when tea bags is Ancient times

চায়ের ইতিহাস নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। চা কবে থেকে এলো, কেমন করে এলো কিংবা কোথা থেকে এলো?

ইতিহাস

খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩৭ সালের কথা, চীনা সম্রাট শেন নাং তাঁর ভৃত্য পরিবেষ্টিত হয়ে জঙ্গলে গেছেন আনন্দ ভ্রমণে। ভৃত্যরা সম্রাটের জন্য খাদ্য প্রস্তুতে ব্যস্ত। হঠাৎ অজান্তে এক নাম না জানা অচেনা পাতা ফুটন্ত পানির মধ্যে পড়ে গেলো। সম্রাটকে যখন সেই পানীয় পরিবেশন করা হলো, সম্রাট তার স্বাদ পেয়ে তো মহা খুশী। সঙ্গে সঙ্গে আদেশ দিলেন অধিকতর তদন্ত করার জন্য যে, এই পাতা কী?

চা নিয়ে যখন জল্পনা কল্পনা

জন্ম হলো এক নতুন পানীয়র। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চা এর ঔষধী গুণাবলীর স্বীকৃতি পেলো যা পরবর্তীতে চীনা পন্ডিত কর্তৃক জানা যায়।খ্রিষ্টাব্দ ৪০০ শতকে চীনা অভিধানে চা স্থান পায় `কুয়াং ইয়া’ নামে। সেইসাথে বর্ণনা দেয় চা তৈরীর পদ্ধতি।
৪০০ থেকে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ, সময় কালে চীনারা শুরু করে চা এর উপর নানা রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা। এরা চায়ের সাথে আদা, নানা রকম মশলা এবং কমলার রস মিশিয়ে চা কে আরও সুস্বাদু করার চেষ্টা করে।৪৭৯ খ্রীষ্টাব্দের দিকে চায়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

সেই সময় থেকে চীনারা বিশ্বাস করতে শুরু করে, চা হচ্ছে রোগ নিরাময়ে এক মহৌষধ।

১৬১৮ সালে রাশিয়া সর্বপ্রথম চায়ের সাথে পরিচিত হয়। চীনা রাষ্ট্রদূত রাশিয়ার জার এলিক্সারের জন্য উপহার হিসেবে নিয়ে যান চা।১৬৫০ সালে চীনে বাণিজ্যিকভাবে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়। ১৭০০ সালের দিকে ব্রিটেনে চা জনপ্রিয়তা পায় এবং এদের মাধ্যমেই ভারতীয় উপমহাদেশে চায়ের প্রবেশ ঘটে।

ব্ল্যাক টি

১৮৩৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারতের আসাম অঞ্চলে চা রোপন এবং উৎপাদন শুরু করে এবং ১৮৩৯ সালে তারা মোটামুটি উন্নত প্রজাতির কালো চা বা ব্ল্যাক টি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। ব্ল্যাক টি’র একটি নতুন বাজার তৈরী হয় যা ভারতে উৎপাদিত এবং যা ছিল চীনের চাইতে উন্নত মানের মোটা দানার কালো চা। কিন্তু এই কালো চায়ের স্বাদ ছিল চীনে উৎপাদিত কালো চায়ের চাইতে কিছুটা তিক্ত, ফলে এর স্বাদ বৃদ্ধিতে প্রয়োজন ছিল আরও গবেষণা।

সময়ের সাথে সাথে চা আরও মিহি হতে থাকলো এবং ব্রিটিশ রাজের প্রথম চা লন্ডনে বিক্রি হলো ১৮৩৯ সালে।দিনে দিনে ভারতের চা আরও উন্নত হতে থাকলো এবং ১৮৮৬ সাল নাগাদ ব্ল্যাক টি’র বাজার দখল করে নিলো।

চা এর বৈজ্ঞানিক নাম কি? 

চা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সিনেনসিস।চা পাতাটির উৎস- ‘ক্যামেলিয়া সিনেনসিস’ গাছ।

চা গাছের জন্মভূমি

চীন দেশই চায়ের আদি চা জন্মভূমি। বর্তমানে এটি বিশ্বের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য পানীয়রূপে গণ্য করা হয়।

বাংলাদেশে যখন চা 

১৮৫৫ সালে ব্রিটিশরা সিলেটে সর্বপ্রথম চায়ের গাছ খুঁজে পায়। এরপর ১৮৫৭ সালে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে শুরু হয় বাণিজ্যিক চা চাষ।

বাংলাদেশে চা বাগানের সংখ্যা

বাংলাদেশ হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ চা উৎপাদনকারী দেশ। চা শিল্প ব্রিটিশ শাসনামল থেকে চলে আসছে, যখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামে চা ব্যবসা শুরু করে।বর্তমানে, বাংলাদেশে ১৬৬টি বাণিজ্যিক চা এস্টেট রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কর্মক্ষম চা বাগান। এই শিল্প বিশ্বের ৩% চা উৎপাদন করে থাকে, এবং ৪০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। 

various tea

চা এর প্রকারভেদ

আসাম এবং চীনজাতীয় – এ দুই প্রকারের চা গাছ দেখতে পাওয়া যায়। আসামজাতীয় চা গাছ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অধিক চাষ করা হয়। এ ধরণের গাছ বেশ বড় এবং বহু পাতাযুক্ত হয়। বিধায়, এটি বাণিজ্যিকভিত্তিতে চাষ করার জন্যে বিশেষ উপযোগী। এ গাছ প্রায় ৬ মিটার বা ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। পাতার নাগাল পাওয়া এবং পাতা সংগ্রহের জন্য গাছগুলোকে ১.২ মিটার বা ৪ ফুটের অধিক বড় হতে দেয়া হয় না। ছেঁটে দেয়ার ফলে চা গাছগুলো ঘণঝোঁপে পরিণত হয়।

অন্যদিকে চীনজাতীয় গাছ আকারে বেশ ছোট হয়। এতে পাতার সংখ্যাও অনেক কম থাকে। এ গাছ না ছাঁটলেও পাতা তোলার মতো উচ্চতাসম্পন্ন হয়ে থাকে।

চীন-জাপানে চা সংগ্রহের সময়

চীন-জাপানে বছরে গড়পড়তা তিনবার চা-পাতা সংগ্রহ করা হয়।
কিন্তু ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কায় খুব ঘন ঘন পাতা সংগ্রহ করা হয়। এদেশগুলোতে বছরে গড়ে ষোল বা বিশবার পর্যন্ত চা-পাতা সংগ্রহ করতে দেখা যায়।

চায়ের গুণাগুন

চীন জাতীয় চা গাছের পাতা স্বাদ ও গন্ধের জন্য বিখ্যাত।
কিন্তু আসামজাতীয় গাছের পাতা রঙের জন্য বিখ্যাত। এই দুই ধরণের চা-পাতার উন্নত সংমিশ্রণের উপরই এর গুণাগুন নির্ভর করে।

চা এর নামকরণ

গ্রীকদেবী থিয়ার নামানুসারে নাম রাখা হয়েছিলো ‘টি’। ‘টি’ থেকে চীনে ‘চি’ এবং আমরা বলি ‘চা’।

চা কয় প্রকার

প্রস্তুতের প্রক্রিয়া অনুযায়ী চা ৫ ধরনের হয়ে থাকেঃ কালো চা, সবুজ চা, ইষ্টক চা, উলং চা ও প্যারাগুয়ে চা।

লিপটন চা

চা মিশ্রণ একটি নিপুণতা ও অত্যন্ত কঠিন কাজ। তাই এটি অভিজ্ঞ ব্যক্তির দ্বারা সম্পাদনা করতে হয়। এরূপভাবে চা মিশ্রণে নৈপুণ্যের লাভের প্রেক্ষাপটে লিপটন চা প্রস্তুতকারক কোম্পানী বিশ্ববাজার দখল ও খ্যাতি লাভ করেছে।

চা যখন ঔষধ

চীনে চা পানের প্রচলন শুরু হয় ঔষধসেবন হিসেবে। ইংল্যান্ডে নামকরা চায়ের ব্র্যান্ড হলো ‘টাইফু’, চীনা ভাষায় যার অর্থ ‘চিকিৎসক’। ‘চা’ এ রয়েছে ৭% থিওফাইলিন ও থিওব্রোমিন যা শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির জন্য অনেক উপকারী। এতে রয়েছে ২৫% এরও বেশি পলিফেনলস, যা ক্যান্সার প্রতিরোধী। ৮০০ খ্রিষ্টাব্দে জাপানে চা পানের অভ্যাসও চালু হয় মূলত সুস্বাস্থ্যরক্ষার জন্যই।

টি ব্যাগ

আজকাল টি ব্যাগের ব্যাপক প্রচলন হয়েছে।চা প্রস্তুতিকে আর সহজ করে তুলতে ১৯০৯ সালে টমাস সুলিভ্যান টি-ব্যাগের প্রবর্তন করেন। নিউ ইয়র্কের চা ব্যবসায়ী থমাস সুলিভ্যান ছোট ছোট সিল্কের কাপড়ে তৈরী পুঁটুলিতে করে চায়ের নমুনা তাঁর কোনো এক ক্রেতার কাছে পাঠান। ক্রেতা ভদ্রলোক চা সমেত ওই সিল্কের পুঁটুলি গরম পানিতে দিয়ে চা বানানোর চেষ্টা করেন। এই শুনে সুলিভ্যান সাহেবের মাথায় চলে আসে টি ব্যাগের ধারণা।

চা যখন চা নয়

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী নাকি পথে পথে বিনামূল্যের চায়ের দোকান বসিয়ে আমাদের চায়ের প্রতি আকৃষ্ট করে তুলে।

various tea imge

চা গাছের আয়ু

চা গাছ চিরসবুজ, ঝোপালো । স্বাভাবিকভাবে এরা ৩০-৪০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। কিন্তু ৪-৫ ফুটের মতো রেখে কেটে ছোট করা হয়, যাতে ঝোপালো না হয়। চা গাছ সাধারণত ১০০ বছর পর্যন্ত ভালোভাবে পাতা দেয় মানুষকে।অনেক গাছই ১৫০ বছর পর্যন্ত মানুষের সেবা করে।

বাংলাদেশে চা 

বাংলাদেশ অন্যতম ভালো চা উৎপাদনকারী দেশের একটি। ১৯১০ সাল নাগাদ ভারতের পাশাপাশি সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়াও শুরু করে চায়ের উৎপাদন এবং রপ্তানী। এছাড়াও কেনিয়া এবং আফ্রিকার কিছু কিছু অংশ চা উৎপাদন এবং রপ্তানীর সাথে জড়িত।

চা যখন মেয়েদের আশীর্বাদ

মেয়েদের প্রচুর চুল ওঠায় কী করেন? কোনো কিছুতেই চুল ওঠা বন্ধ হচ্ছে না। তখন চা-পাতা সেদ্ধ করে তাকে ঠাণ্ডা করে নিয়ে। প্রতিদিন একবার করে মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে। মাসখানেক এভাবে লাগালে চুল পরা কমে যায়।

চা এর উপকারিতা

বেশ কিছু গবেষণা থেকে জানতে পারা যায় যে, চা পানে স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।

১।চায়ে রয়েছে `অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’ যা আপনাকে রাখে চির তরুণ। আর আপনার শরীরকে রক্ষা করে দূষণ থেকে।

২।চা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

৩। যাঁরা দৈনিক এক থেকে তিন কাপ সবুজ চা পান করে, তাঁদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ৩৫ শতাংশ কম থাকে।

৪। চায়ে স্ট্রোক ছাড়াও কোলেস্টেরল সমস্যা কমিয়ে দেয় প্রায় ৩২ শতাংশ।

৫।নিয়মিত চা পানে ওজন কমে যাবে, মেদ কমাতে সাহায্য করে থাকে।

৬। সবুজ চা পানে হাড়ের ক্ষয় রোধ করে।

৭।চা পানে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে এবং দাতের ক্যাভিটি থেকে রক্ষা করে।

৮।চা পানে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

tea bag

লবঙ্গ চায়ের উপকারিতা

লবঙ্গ চায়ের ৮টি অসাধারণ উপকারিতা!

১. সারা শরীরে রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়।

২. রক্তে শর্করার মাত্র নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৩. আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমায়।

৪. দাঁতের ব্যাথা কমায়।

৫. ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে।

৬. সাইনাসের প্রকোপ কমায়।

৭. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে।

তাজা চা যখন সতেজতায়

সতেজতায় ভরা চা , মন হয়ে যায় তাজা। তাজার এক কাপ চায়ে আছে এক অনন্য সতেজতা এবং প্রাকিতিক থিয়ানিনের গুনাবলি।

পোস্টটি ভালো লাগলে Factarticle এর সঙ্গেই থাকবেন। 

BY:Factarticle.com

Shahin Hasan

Add comment

Ads

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed

shares