লিন্‌কিন পার্ক
AmaR KothA

লিঙ্কিন পার্ক! কোথায় হারালো চেস্টারের পাওয়ারফুল ভয়েজের স্ক্রিম

linkin park

Linkin Park! Where’s the Chester Powerful Voyage Scream?

*লিংকিন পার্ক

লিংকিন পার্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের লস এঞ্জেলেস শহরে অবস্থিত রক ব্যান্ড। তাদের প্রথম অ্যালবাম হাইব্রিড থিওরি-র জন্য তারা নূমেটাল ধারার ব্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক ব্যবসাসফল ব্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করেছে।                                                                                                         ছবিটিঃ সংগৃহীত

তিন হাইস্কুল পড়ুয়া ছাত্র মাইক শিনোডা, ব্র্যাড ডেলসন এবং রব বাউর্ডন লিংকিন পার্ক প্রতিষ্ঠা করে। হাইস্কুল পাশ করার পর তারা সঙ্গীতের প্রতি আরো বেশি মনোনিবেশ করলো। এসময় তারা জো হান নাম, ডেভ ফিনিক্স এবং মার্ক ওয়েকফিল্ডকে ব্যান্ডে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তাদের ব্যান্ডের নাম ছিল জিরো। প্রথমদিকে তাদের তেমন কোনো সঙ্গীত সরঞ্জাম ছিল না, ১৯৯৬ সালে তারা মাইক শিনোডার শোবার ঘরে এক ছোট স্টুডিওতে গান তৈরি করা শুরু করে। যখন তারা কোন রেকর্ডিং কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারল না তখন তারা ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল এবং হতাশ হল। ব্যর্থতা এবং অচলাবস্থার কারণে তখন ভোকাল ওয়েকফিল্ড ব্যান্ড ছেড়ে দেয়। ফোনিক্স ও স্ন্যাক্সও অন্য কোন ব্যান্ডে যোগ দেবার আশায় ব্যান্ড ত্যাগ করে।

*চেস্টার বেনিংটন

ওয়েকফিল্ডের স্থানে অন্য কাউকে ভোকাল হিসেবে নিয়োগ দেবার জন্য জেরোর বেশ সময় লাগে। এসময় তারা অ্যারিজোনার ভোকাল চেস্টার বেনিংটনকে ব্যান্ডে নেয়। চেস্টার চার্লস্‌ বেনিংটন ছিলেন একজন মার্কিন গায়ক, গানলেখক এবং অভিনেতা। তিনি বহুল পরিচিত লিংকিন পার্কের সহযোগী গীতিকার ও কন্ঠশিল্পী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া দুটি রক ব্যান্ড ডেড বাই সানরাইজ ও স্টোন টেম্পল পাইলটসের কারণেও পরিচিত।

চেস্টার বেনিংটন পরিচিতি লাভ করেন ২০০০ সালে লিংকিন পার্কের প্রথম অ্যালবাম হাইব্রিড থিওরি-তে ভোকাল হিসেবে গান গাওয়ার মাধ্যমে, যেটি ব্যাপক বানিজ্যিক সাফল্য অর্জন করেছিল

 

*আমার ভালোলাগা

প্রথমে, আমার ইংরেজি গানের প্রতি তেমন একটা আগ্রহ ছিল না।  লিনকিন পার্ক ব্যান্ড এর সাথে যখন পরিচয় হয় তখন সম্ভবত

ক্লাস ৮ এ পড়ি, পাড়ার এক বড় ভাই (অনয়) তিনিও মুলত গান টান গাইতো , তার কাছ থেকেই একদিন লিন্‌কিন পার্কের  গান শুনতে পাই। গানটা ছিল ONE MORE LIGHT  আমি কতবার যে শুনেছি গুণে শেষ করতে পাড়বো না। একদিন শুনেই মনের মধ্যে গেঁথে যায় গানটা। 

পরে লিনকিন পার্কের সবগুলো গান ডাওনলোড করে নেই। এরপরেই লিনকিন পার্কের ভক্ত হয়ে যাই । গান গুলো শুনলে কেমন একটা নিজের ভিতরে পাওয়ারফুল এনার্জি সৃষ্টি হতে থাকে। তাছাড়াও  প্রত্যেকটা ব্যান্ড মেম্বারের মধ্যে কি  একটা এনার্জি শুনলে শ্রোতাদের মধ্যেও একটা অনুভুতি সৃষ্টি হয়।                           

 

linkin

              ছবিটিঃ সংগৃহীত

*কেন তাদের গানগুলো এত জনপ্রিয় হলো?

*কেন চেস্টার এত জনপ্রিয় হলো?

এর কারণ সম্ভবত তাদের লিরিক্স। প্রত্যেকটা গানের কথা-ই এমন ছিলো যে  তরুণ বয়সের যে কারো মনে হবে গানটা শুধুমাত্র তার কথা ভেবেই লেখা হয়েছে।

তারুণ্যের শত-শত নির্ঘুম রাত শুধুমাত্র হেডফোনে লিনকিন পার্ককে সঙ্গী করে কাটিয়ে দিয়েছে।

তাছাড়াও  চেস্টারের পাওয়ারফুল ভয়েজের স্ক্রিম, মাইক শিনোডা’র র‍্যাপ আর পাবলিক ইন্টারআকশন, জো হানের টার্নটেবলের সাথে সাথে অগণিত দর্শকের উদ্দাম নাচানাচি আর লাফানো !

 লিনকিন পার্কের অন্তত ৮০%-এর শ্রোতারই ব্যান্ডটার সাথে প্রথম পরিচয় হয়েছে তাদের In the end গানটা দিয়ে। তার মধ্যে এসব Faint, Crawling, One step closer, From the inside, New Divide, With you, Easier to run তো আছেই!

 

*কেন তারা আত্মহত্যা করলো?

সেই লিনকিন পার্ককে আর পাওয়া যাবে না।  

ব্যান্ডটার ফ্রন্টম্যান এবং ভোকাল চেস্টার বেনিংটন আত্মহত্যা করেছেন।

কেমন জানি একটা অদ্ভুত প্রশ্ন ঘিরে আছে এই আত্মহত্যা নিয়ে, কোথায় যেন একটা মিল  আছে? এটাই মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে ? 

যে দিনে আত্মহত্যা করেছেন, সেই দিন ছিল ২০ জুলাই। এই দিনে তার  বন্ধু সাউন্ডগার্ডেন ও অডিওস্লেভের ভোকালিস্ট ক্রিস কর্নেলের জন্মদিন ছিল। এই ক্রিস কর্নেল  নিজেও মাসকয়েক আগে আত্মহত্যা করেছেন!

কারনটা হতে পারে মাদকাসক্ত । কেউ শুধু মদ, আবার কেউ উচ্চমাত্রার কোকেন কিংবা হেরোইন সেবন করতেন।  এই মাদকাসক্তি একটা বড় কারণ হতে পারে। 

এই মানুষগুলো কিন্তু তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্যের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছেন। যা করতে ভালবাসতেন-সেটাই পেশা হিসেবে নিয়েছেন।কোটি কোটি মানুষের ভালবাসা পেয়েছেন, ভক্তদের কতই না ভালোবাসা পেয়েছেন।

এতকিছু পেয়ে যাওয়াটাই কি তবে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাদের জীবনে? কারণটা হতে পারে অনেক কিছু। 

যাইহোক সবশেষে বলতে চাই,যে  লিংকিন পার্ক সবার মাঝে সারাজীবন বেচে থাকুক। তারুণ্যের শত-শত নির্ঘুম রাত শুধুমাত্র হেডফোনে লিনকিন পার্ককে সঙ্গী করে থাকুক। 

পোস্টটি ভালো লাগলে Factarticle এর সঙ্গেই থাকবেন।

BY:Factarticle.com 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *