Uncategorized

কেন আমরা বস্তায় বস্তায় টাকা ছাপাই না?

money

Why don’t we print money in sacks?

কিছুদিন আগের ঘটনা,হঠাৎ মনে পড়ায় লিখতে বসলাম। একটা চায়ের দোকানে বসে আছি আমি আর আমার ফ্রেন্ড রাব্বি ,পাশের এক ভদ্রলোক বলতেছে , আমাদের দেশে এত আর্থিক সমস্যা মানুষ তাদের চাহিদাগুলো ঠিকমতো পূরণ করতে পারে না।

পাশ থেকে আর একজন ভদ্রলোক বলল যে ,সরকার যদি বিলিয়ন-বিলিয়ন টাকা প্রিন্ট করে জনগনের হাতে তুলে দিত তাহলেই ত সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

তৃতীয় ভদ্র লোক বললেন,হুম তাই তো সরকার যদি বস্তায় বস্তায় টাকা প্রিন্ট করে দেশের উন্নতি করে তাহলেই বাঁ সমস্যা কোথায়?
এখানেই থামা যাক, ইচ্ছামতো টাকা প্রিন্ট করতে পারে না কোন দেশ। মন চাইলেই টাকা বানাতে পারে না,এখানে অনেক সমস্যা আছে।
টাকা প্রিন্ট করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। বাংলাদেশে ৫০ এর বেশি ব্যাংক এর কাছে টাকা বানানোর মেশিন আছে।
কথা হচ্ছে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুলো কিসের ভিত্তিতে টাকা প্রিন্ট করে? তারা কি মন চাইলেই টাকা প্রিন্ট করতে পারবে?
মূলত টাকা বানানোর কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। টাকা প্রিন্ট করা হয় অই দেশের অর্থনৈতিক চাহিদার উপর এবং দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে।
টাকা প্রিন্ট করা বেশি হলে সেই দেশের অর্থনীতি ভারসাম্য হারাতে শুরু করে।

ধরা যাক , আমাদের দেশের সম্পদ বলতে ১০ টি লিচু। আমাদের দেশ বছরে ২০ টাকা প্রিন্ট করলো। পরিবহন খরচ ইত্যাদি বাবদ বাদ দিয়ে ধরলাম প্রতিটি লিচুর মূল্য ২ টাকা। পরের বছর ৪০ টাকা প্রিন্ট করলো।সম্পদ রইল ১০ টি লিচু, ১০ টি লিচু কেনার জন্য ৪০ টাকা বরাদ্দ হল।অর্থাৎ প্রতিটি লিচুর দাম দিগুন হলো। তাহলে এভাবে আমাদের দেশের মোট সম্পদ ও মোট কারেন্সি ভারসাম্মতা পেলো।

এভাবেই মোট সম্মপদের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা উদপাদন করলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। এজন্য টাকার দাম কমে যায় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় একেই বলে মুদ্রাস্ফীতি

অন্যভাবে যদি বলা যায় তাহলে, ১৯৯৪ সালে চালের দাম ছিল ১ টাকা-মূল্যসূচক ১০০। ১৯৯৫ এ দাড়ায় ১ টাকা ২০ পয়সা-মূল্যসূচক ১২০ । ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত চালের মূল্যসূচক যদি ১৫০ হয় তবে এই ১০ বছরে মুদ্রাস্ফীতি হার দাঁড়াবে (১৫০-১২০)/১২০=২৫% ।

এভাবেই সাধারণত মূল্যস্ফীতি নির্ভর করে সামগ্রিক চাহিদার উপর।দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুলো চাহিদা নির্ধারণ করে,সেই অনুসারে টাকা প্রিন্ট করে থাকেন। সাধারণত একটি দেশের টাকা প্রিন্ট করার আদর্শ হচ্ছে GDP ২-৩ শতাঙ্গশ।
আবারো, যদি কোন দেশ ইচ্ছামতো টাকা বানাতে চায় তাহলে কি হতে পারে? তাঁর একটি করুণতম উদাহরণ হলো-জীম্বাবূয়ে।
আমরা সবাই জানি যে, জিম্বাবুয়ের অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতির কারণে সেখানে এমন অবস্থা হয়েছিলো যে, একটা বাটার-বন কিনতে এক বস্তা টাকা নিয়ে যেতে হতো। এভাবেই ধীরে ধীরে তাদের অর্থনীতির অবস্থা করুণ হয়ে ঊঠলো।

এভাবে এমন অবস্থা হলো যে,১৯৪৬ সালে তাদের মুদ্রাস্ফীতির দৈনিক হার ১৯৫% পর্যন্ত হয়েছিল।

এজন্য কোন দেশ চাইলেও বস্তায় বস্তায় টাকা প্রিন্ট করতে পারে না। মোটকথা,টাকা প্রিন্ট করে সেই দেশের সর্বশাকূল্ল বিবেচনা ও ভারসাম্য বজায় রেখে।

পোস্টটি ভালো লাগলে কমেন্ট এ জানাবেন।

BY:Factarticle.com

Comments

Tags
Back to top button
Close
Close