ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের স্পীড বাড়ানোর ৫ টি কৌশল | Factarticle.Com            
Factarticle.Com
fast

ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের স্পীড বাড়ানোর ৫ টি কৌশল

  • ওয়েবসাইটের স্পীড খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ একজন ভিজিটর আসার পর আপনার সাইট যদি লোড হতেই 30 সেকেন্ড লেগে যায় তাহলে ভিজিটর কি আপনার সাইটে বসে থাকবে না স্কিপ করে অন্য কোনো সাইটে চলে যাবে? তাছাড়া সাইট স্পীড এসইও এর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কেননা গুগল সাইট স্পীডকে সাইট র‌্যাংকিং এর একটি ফ্যাক্টর হিসেবে গণ্য করে। শুধু তাই নয়, মাইক্রোসফটের বিং সার্চ ইঞ্জিন টিমের রিপোর্ট অনুযায়ী আপনার পেজটি যদি 2 সেকেন্ড দেরীতে লোড হয় হবে তবে ট্রাফিকের পরিমাণ 3.8% কমে যায়, আয়ের পরিমাণ 4.8% কমে যায় এবং ক্লিকের হার 4.3% কমে যায়।

*ওয়েবসাইটের স্পীড টেস্টঃ
আপনার ওয়েবসাইট লোড হতে কতো সময় লাগে তা চেক করার অনেক ফ্রি টুলস অনলাইনে পাবেন। এরমধ্যে কয়েকটি উল্লেখ্য সাইটের নাম হচ্ছে:
1.GTmetrix
2.Google page Speed
3.Yahoo! YSlow
4.Web Page Test
এগুলোর যেকোনো একটি ব্যবহার করে আপনি সহজেই দেখতে পারবেন আপনার সাইট বর্তমান অবস্থা।

*ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের স্পীড বাড়ানো যায় কিভাবে ?
ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের গতি বা স্পীড বাড়ানোর জন্য 5টি ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন সচারচর ব্যবহার করা হয় । সেগুলো হলোঃ
1. WP Rocket.
2. W3 Total Cache.
3. WP Super cache.
4. WP Fastest Cache.
5 Comet Cache .

1. WP Rocket:

rocket

WP Rocket ওয়ার্ডপ্রেস এর অন্যতম একটি ক্যাশিং সলিউশন, যা একটি প্রিমিয়াম প্লাগইন। এটি অত্যন্ত ইউজার ফ্রেন্ডলি। এটি এত দ্রুত কাজ করে যে অনেকে WP Rocket কে গুগল ওয়েবমাস্টার টুলস এর লাইভ সার্ভার বলে থাকে। যা সার্চ ইঞ্জিনকে দ্রুত কনটেন্ট খুঁজে পেতে সাহায্য করে। এই প্লাগইন এর সব থেকে বড় সুবিধা এটা একটিভ করার সাথে সাথে সঠিকভাবে কাজ করে। যদি আপনি এর কনফিগারেশন সম্পর্কে নাও জানেন তবুও চিন্তার কিছু নেই। এতে অটোমেটিকভাবে সবকিছু সেট করা থাকে। তবে আপনি চাইলে কাস্টম কনফিগারেশন সেট করতে পারবেন।

*বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাঃ
1. ক্যাশ প্রিলোডিং: ক্যাশ প্রিলোডিং বলতে একটি প্রক্রিয়াকে বুঝায় যা বাল্ক লোডিং এর মাধ্যমে পোস্টগুলো, পেজগুলো এবং ইমেজগুলোকে লোড করে রাখে।

2. ব্রাউজার ক্যাশিং: ব্রাউজার ক্যাশ সার্ভারের লোড কমাতে সাহায্য করে। একটি পেজ একবার লোড হলে তা ইউজারদের কম্পিউটারের ব্রাউজারে ক্যাশ করে রাখে, আর এই প্রক্রিয়াকে ব্রাউজার ক্যাশ বলা হয়ে থাকে।

3. GZIP কম্প্রেশন: GZIP ফাইল বিন্যাস এবং ফাইল কম্প্রেশন এবং ডিকম্প্রেশনের জন্য ব্যবহৃত একটি সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন। GZIP কম্প্রেশন সার্ভার-সাইটে আপনার HTML, সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্ট ফাইলগুলোর আকার আরও কমাতে ব্যবহৃত হয়।

4. এইচটিএমএল, সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্ট কোডকে মিনিফিকেসন(সংক্ষিপ্ত) ও কনকেটেনেসন(একত্রিত) করা।

5. লেজি ইমেজ লোডিং: এই বৈশিষ্ট্য WP Rocket কে অন্যান্য জনপ্রিয় প্লাগইন থেকে পৃথক করেছে। কারণ তখনই ইমেজগুলো লোড হয় যখন ইউজার পেজের নিচে স্ক্রল করে। যেটাকে নন প্রিমটিভ অ্যাপ্রোচ বলা হয় যে পদ্ধতি উল্লেখযোগ্যভাবে লোড টাইম কমিয়ে আনে।

*প্লাগইনটিতে আপনি কিছু অন্যান্য বৈশিষ্ট্য পাবেন যা নিম্নরূপঃ

1. সহজ, দ্রুততম পদ্ধতির সেটআপ।

2. পেইজ ক্যাশিং ইমিডিয়েটলি একটিভ।

3. HTTP রিকুয়েস্টগুলোকে মিনিমাইজ করে গুগল ফন্ট অপ্টিমাইজেশন।

4. জাভাস্ক্রিপ্ট ফাইলগুলোকে শেষে লোড করা।

2. W3 Total Cache:

best

W3 Total Cache একমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন যা ডিজাইন করা হয়েছে বুস্ট এবং পেজ লোডিং টাইম কমানোর করার জন্য। শীর্ষস্থানীয় হোস্টিং সেবা প্রদানকারীরা এই ক্যাশিং প্লাগইন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এই প্লাগইনের সেটিংস ড্যাশবোর্ড ১৬টি পেজে বিভক্ত। এটা সেটিংস নিজে কনফিগার করতে হবে না, এর ডিফল্ট সেটিংস খুব ভালোভাবে কাজ করে।
এ সেটিংস পেজগুলো বিভিন্ন ধরণের ক্যাশ সেটিংস এর জন্য ব্যবহার হয় যেমনঃ পেইজ ক্যাশিং, অবজেক্ট ক্যাশিং, ডাটাবেস ক্যাশিং, ব্রাউজার ক্যাশিং ইত্যাদি । এর যে কাস্টমাইজ করার সুবিধা আছে তা অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া কঠিন।

*বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাঃ

1. ওয়েব ব্রাউজার অপটিমাইজ করার জন্য GZIP কম্প্রেশন ।

2. এইচটিএমএল, CSS এবং জাভাস্ক্রিপ্ট ফাইলগুলির কোডকে মিনিফিকেসন(সংক্ষিপ্ত) ও কনকেটেনেসন(একত্রিত) করা ।

3. CDN(Content Delivery Networks) সাপোর্ট ।

4. CloudFlare এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

3. WP Super Cache:superWp super cache plugin খুবই সহজবোধ্য ক্যাশিং প্লাগইন, যা ওয়ার্ডপ্রেস এ ফ্রি পাওয়া যায় । প্লাগইনটি মূলত ওয়ার্ডপ্রেস পিএইচপি স্ক্রিপ্টের পরিবর্তে আপনার ডাইনামিক ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ থেকে স্ট্যাটিক এইচটিএমএল ফাইল তৈরি করে এবং ক্যাশ করে ।

*এতে লোড টাইম কমানোর জন্য তিনটি অপশন রয়েছে:

1.স্ট্যাটিক পেজগুলো ডেলিভার করতে mod_rewrite ব্যবহার করে।
2.পিএইচপি ব্যবহার করে স্ট্যাটিক পেজগুলো দেখায়।
3.একটি লিগ্যাসি ক্যাশিং মোড ব্যবহার করে যা লগ ইন করা ইউজারদের জন্য পৃষ্ঠা ক্যাশ করে।

*বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাঃ

1. পৃষ্ঠা কম্প্রেশন এবং ডাইনামিক ক্যাশিং।

2. CDN(Content Delivery Networks) সাপোর্ট।

3. মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে ভিজিটরদের জন্য ক্যাশিং করা।

4. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুছে ফেলা এবং পুনঃ ক্যাশিং পরিচালনা করার জন্য নির্ধারিত সময় নির্ধারণ করা।

4.WP Fastest Cache:wp

অনেক ডেভেলপারদের মতে, WP Fastest Cache প্লাগইন হল “সবচেয়ে সহজ এবং দ্রুততম WP ক্যাশ সিস্টেম” । এটা অনেকটা WP Super Cache এর মতই ওয়ার্ডপ্রেস পিএইচপি স্ক্রিপ্টের পরিবর্তে আপনার ডাইনামিক ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ থেকে স্ট্যাটিক এইচটিএমএল ফাইল তৈরি করে এবং সেটি ক্যাশে সংরক্ষণ করে। এটি খুব সহজেই ইন্সটল করা যায়। এর জন্য আপনাকে .htaccess কনফিগারেশন ফাইলটি সংশোধন করতে হবে না।

প্লাগইনটি আপনার ওয়েবসাইটের স্ট্যাটিক এইচটিএমএল ফাইল তৈরি করার জন্য mod_rewrite ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে মিনিফিকেশন, GZIP compression, ব্রাউজার ক্যাশিং এবং সার্ভার থেকে জাভাস্ক্রিপ্ট ও সিএসএস ফাইলগুলো একত্রে মিনিফাইড করে সাইজ কমানো যায়।

*বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাঃ

1. এই প্লাগইনে Mod_Rewrite এর মত দ্রুততম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

2. একটি পোস্ট বা পেজ পাবলিশ করা হয় তখন সব ক্যাশ ফাইল মুছে ফেলে।

3. CDN এবং SSL সাপোর্ট করে।

4. মোবাইল ডিভাইস এবং লগ ইন করা ইউজারদের জন্য ক্যাশ এনাবেল বা ডিজাবেল করার অপশন রয়েছে।

5. শর্ট কোড দিয়ে কোন নির্দিষ্ট পেজ বা পোস্টে ক্যাশ ব্লক করা যায়।

5. Comet cache:compact ache

প্লাগইনটি আগে ZenCache এবং Quick Cache নামে পরিচিত ছিল। তবে নতুন নামে এটি বেশ দ্রুতই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি প্রতিটি পোস্ট, পৃষ্ঠা, বিভাগ এবং লিঙ্ক আপডেট হওয়ার সাথে সাথে স্ন্যাপশট নিয়ে নেয় এবং আলাদাভাবে এগুলো ক্যাশ করে রাখে। এটা সহজেই কিন্তু কার্যকরভাবে সাইটের পেজ লোড হওয়ার সময় কমিয়ে দেয়। প্লাগইনটি একটি ক্যাশেড ভার্সন কখন পাঠানো উচিত এবং কখন পাঠানো উচিত নয় তা নির্ধারণ করার জন্য উন্নত কৌশল ব্যবহার করে। ডিফল্টভাবে, ওয়েবসাইটে লগইন করা ইউজার এবং সম্প্রতি কমেন্টকারি ভিউয়ারদেরকে ক্যাশ করা পেজগুলো দেখায় না। এটা আপনি Settings পেজ থেকে configuration settings এ গিয়ে এডিট করতে পারবেন।

*বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাঃ

1. Home এবং Post Page, Author Page, Category, Tag এবং Custom Term Archives, Custom Post Type Archives, RSS/RDF/ATOM Feeds, and XML Sitemap গুলোর জন্য অটোমেটিকভাবে ক্যাশ ক্লিয়ার করার অপশন আছে।

2. যেসব URL এ কুয়েরী স্ট্রিং (GET Requests) থাকে সেগুলোকে ক্যাশ করতে পারে বা ইগনোর করতে পারে।

3. ইউজার এজেন্ট এবং HTTP রেফারার বর্জন করতে সক্ষম।

4. ক্যাশ ফাইলগুলোর জন্য অটোমেটিকভাবে মেয়াদকাল নির্ধারণ করা যায়।

BY: Factarticle.com

Shahin Hasan

1 comment

Ads

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed

shares