police interview
Jobs

এসআই নিয়োগে ভাইভার প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ

এসআই নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিpolice man

How will the interview prepare for the appointment of SI – Dhaka Metropolitan Police.

পোস্টটি সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিবেন কারন এই পোস্ট টা দেখলে হয়তো যারা এসআই নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা একটু হলেও উপকৃত হবেন।  

২৯ অক্টোবর থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। আপনারা যাঁরা সাব-ইন্সপেক্টরের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের সবাইকে অভিনন্দন।

মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সময় কোনো মোবাইল ফোন, ব্যাগ, ক্যামেরা, ইলেকট্রনিক ঘড়ি, ক্যালকুলেটর বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না। বহিরাগত ক্যাডেট এসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পেতে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেনে জড়িত না হওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসআই নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি যে সব কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে-

এসআই নিয়োগের যোগ্যতা

১. লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্রের মূল কপি।

২. পরীক্ষার্থীর বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, নাগরিকত্ব, জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট সব সনদপত্রের মূল কপি এবং সত্যায়িত ফটোকপি।

৩. বীর মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের বয়স প্রমার্জনের ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে লাল মুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকা অথবা গেজেট ও সাময়িক সনদ কিংবা গেজেট ও প্রধানমন্ত্রী প্রতিস্বাক্ষরিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ (বামুস)-এর সনদ কিংবা গেজেট, সাময়িক সনদ ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ (বামুস) এর সনদের মূল কপি এবং সত্যায়িত ফটোকপি।

৪. বীর মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রার্থী হলে তিনি যে বীর মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা এ মর্মে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মেয়র/ওয়ার্ড কাউন্সিলর (যা প্রযোজ্য) কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি এবং সত্যায়িত ফটোকপি এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্রাদি।interview questions

জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করা

যেকোনো লিখিত পরীক্ষা দিয়ে জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করা হয়। আর ভাইভা পরীক্ষা নেওয়া হয় আপনাকে যে চাকরিটা দেওয়া হবে, সেটার জন্য আপনি কতটা যোগ্য, সেটা সামনাসামনি যাচাই করতে। সুতরাং এখানে কিন্তু বুঝতে বাকি থাকে না যে আপনাকে সুন্দরভাবে ভাইভা বোর্ডের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।

ভাইভায় আপনি কতগুলো প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দিতে পারছেন, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনি কতটা সাহস ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। আপনি কোনো প্রশ্নের উত্তর না পারলে সেটার পরিপ্রেক্ষিতে না বলাটার মধ্যেও একটা শিল্প থাকা উচিত বলে মনে করি।

সর্বোপরি একটা কথা মনে রাখতে হবে, সুযোগ জীবনে বারবার আসে না। তাই আপনার যতটুকু সাহস ও মনোবল থাকবে, ততটুকু দিয়েই ভাইভা ফেস করার চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন, আপনার আত্মবিশ্বাস আপনাকে সফলতার কাছে নিয়ে যাবে। আসুন, এবার আমার নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করি।

আমি প্রথমেই রানি এলিজাবেথের একটি বিখ্যাত বাণী দিয়ে শুরু করছি। তিনি বলেছেন, ‘A good face is the best letter of recommendation’। এ কথাটার সঙ্গে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত। আমি কথাটা মনে ধারণ করেই ভাইভা বোর্ডে ঢুকেছিলাম। কিন্তু এতটা বেশি ধারণ করেছিলাম, যাতে আমার ভাইভা বোর্ডের চেয়ারম্যান আমাকে দেখে বলেই ফেলেছিলেন, ‘বা বা, তোমাকে তো চার্লি চ্যাপলিনের মতো লাগছে।’ তাই বেশি সিরিয়াসনেস না দেখানো ভালো। তবে আমি কিন্তু মোটেও ভয় বা লজ্জাও পাইনি। কারণ, আমি জানতাম যে হয়তো আমাকে ও আমার কনফিডেন্স লেভেলকে পরীক্ষার জন্য এমন করে তিনি বলেছেন। তাই আমি আমার জায়গা থেকে খুব একটা বিচলিত হইনি।

সত্যি বলতে কি, সেই সেদিনের ভাইভা বোর্ডের চার্লি চ্যাপলিন আজকের সাব-ইন্সপেক্টর। তার মানে আমাকে কিন্তু মজা করেই চার্লি চ্যাপলিন বলেছিলেন। চাকরির বাজারে দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি হিসেবে সাব-ইন্সপেক্টরের গ্রহণযোগ্যতা কিন্তু কোনো অংশে কম নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রেই বেশি। এতক্ষণ কিন্তু আমার কথাই বলে যাচ্ছি। এবার আসি আসল কথায়।

এসআই নিয়োগ প্রক্রিয়া

police officer

ভাইভা বোর্ড

আমাদের সময় ভাইভা বোর্ড ছিল একটি। কিন্তু গত বছর তিনটি বোর্ড করা হয়। এটা নির্ভর করে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর। বোর্ড সাধারণত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট হয়। সদস্য ছয়জনও থাকতে পারেন। কিন্তু সেটা নিয়ে আপনার না ভাবলেও চলবে। আপনাকে ভাবতে হবে আপনি একা হলেও তাঁদের ছয়জনের চেয়ে আপনি বেশি পারেন। মূলত তাঁরা সবাই চান আপনাকে চাকরিটা দিতে। কিন্তু আপনাকে সেটা অর্জন করতে হবে। ভাইভা বোর্ডের সবাই আপনাকে একটির পর একটি প্রশ্ন করবেন। আপনি আস্তে আস্তে করে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে চেষ্টা করবেন। যদি কোনো উত্তর না পারেন, তবে মুখে হাসি রেখে সুন্দর করে বলুন, ‘স্যার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।’ কিন্তু মনের ভুলেও না পারলে আমতা আমতা করবেন না। এটা আপনার ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

যেসব বিষয়ে প্রশ্ন আপনাকে জিজ্ঞেস করা হতে পারে ভাইভা বোর্ডে

এসআই নিয়োগ গাইড

১.এসআই নিয়োগ প্রশ্ন হতে পারে আপনার সাবজেক্ট থেকেই। সুতরাং আপনার সাবজেক্টের বেসিক প্রশ্ন সম্পর্কে অবশ্যই ধারণা রাখবেন। সাবজেক্টিভ প্রশ্ন না পারা কিন্তু ডিসক্রেডিট। আর এ ক্ষেত্রে আপনার ওপর একটা খারাপ ধারণা তৈরি হতে পারে।

২.আপনাকে বর্তমান সরকারের অর্জন, মুক্তিযুদ্ধে আপনার জেলা, থানা প্রভৃতি বিষয় ভালো করে জেনে নিতে হবে। আপনার জেলার সবকিছু খুঁটিনাটি জানতে হবে। আপনার জেলার কুখ্যাত ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম জানতে হবে। আপনার জেলা কেন বিখ্যাত? এগুলো জানতে হবে।

৩.এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে যাবেন। এখান থেকে প্রশ্ন হবেই। বিশেষ করে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ সালের ঘটনাগুলো প্রেক্ষাপটসহ দেখে যাবেন।

৪.একটি বা দুটি ইংরেজি ট্রান্সলেশন জিজ্ঞেস করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যেকোনো গ্রামার বইয়ের এ-সংক্রান্ত অংশটি দেখে যাবেন। দুশ্চিন্তার কিছু নেই। খুব সহজ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়। যেমন—এখান থেকে ৩৩টি পতাকা দেখা যাচ্ছে, এখন পাঁচটা বাজে, টেবিলে একটা কলম রয়েছে, আমার পকেটে একটা কলম আছে ইত্যাদি।

৫.আপনার নামের অর্থ জেনে যেতে ভুলে যাবেন না। আপনার নামের বিখ্যাত কেউ থাকলে অবশ্যই তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে যাবেন।

৬.বর্তমানে আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা নিয়ে যাবেন। যেমন—কাশ্মীর সমস্যা, রোহিঙ্গা সমস্যা ও এর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব, উত্তর কোরিয়া সমস্যা। এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষার পর থেকে সাম্প্রতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে খেয়াল করবেন।

ভাইভা পর্যালোচনা

পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদের ভাইভা নম্বর ১০০। ভাইভাতে উপস্থিত হলে ৫০ নম্বর। এই ৫০ নম্বর মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা হিসেবে ধরা হয়, যা আপনি আপনার বোর্ডের সামনে নিজেকে সঠিক উপস্থাপনের মাধ্যমে পেতে পারেন। বাকি ৫০ নম্বর নির্ভর করবে আপনার প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দেওয়া ও মার্জিত আচার-ব্যবহারের ওপর।

লেখক: সাব-ইন্সপেক্টর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সবসময় Factarticle.com এর সঙ্গেই থাকার চেষ্টা করবেন। 

BY:Factarticle.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *