drug
Drug

এটাই কি নারীর স্বাধীনতা ,এটাই কি নারীর চাওয়া সমান অধিকার

এটাই কি আমাদের ৩০ লক্ষ্য শহীদের চাওয়া বাংলাদেশ? বর্তমান বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপটে, আগের থেকে এখন মেয়েদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা বেশ ব্যাপক হাড়ে বেড়ে গিয়েছে। আগে ছেলেদের সংখ্যা যেমন বেশি ছিল তেমনি এখনও বেশি কিন্তু সেই সাথে, দিন যত সামনে যাচ্ছে ততো যেন মেয়েরাও পাল্লা দিয়ে মাদকের দিকে ঝুঁকছে। এর মধ্যে রাজধানীর নামি-দামী স্কুল কলেজের ছাত্রী থেকে শুরু করে শহর পর্যায় পর্যন্ত এবং বস্তিতে থাকা মেয়েরাও রয়েছে।

বর্তমানে আমাদের সমাজে WESTERN এর নামে অনেক পরিবারে নেমে এসেছে দায়িত্বহীনতা। বাবা-মায়েরা আধুনিকতার নামে মেয়েদেরকে গড্ডালিকা প্রবাহে চলার সুযোগ দিচ্ছে। মাদকাসক্ত নারীর দুই-তৃতীয়াংশই স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। এক্ষেত্রে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি। কিন্তু, কেন নারীরা এসব দিকে অগ্রসর হচ্ছে? কেন তারাও পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে? এমন আরও হাজার কারণ আছে যেগুলো সম্বন্ধে আমরা অজ্ঞ অথবা জেনেশুনেও না জানার ভান করে চলি।

আমাদের সবাইকে এসব কারণ গুলো জানতে হবে বুঝতে হবে বুঝাতে হবে। মূলত, মেয়েদের এই মাদকাসক্তির পিছনে কিছু কমন কারণ হল- পারিবারিক অশান্তি, কৌতূহল, বন্ধুদের অসৎ সঙ্গ, হতাশা, অপসংস্কৃতি, আধুনিকতার নামে উগ্রতা, নারী স্বাধীনতার অথবা নারী পুরুষ সমান অধিকারের নামে উগ্রতা, ইত্যাদি। এছাড়া এখন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই হোক আর অন্য কোন মাধ্যমেই হোক যেভাবে ছেলে মেয়ে বন্ধুত্ব দেখান হয় সেটাও অনেক দায়ী, কারণ এমন বন্ধুত্ব করতে গিয়েও অনেক সময় বন্ধুদের ফাঁদে পড়ে ইচ্ছায় হোক অথবা অনিচ্ছায় হোক মাদকের সাথে জড়িয়ে পরে। তবে এজন্য নারী স্বাধীনতাকে দায়ী করা যায় না, কারণ অনেক মেয়েই নিজের জ্ঞানবুদ্ধির জোরেই মাদক থেকে দূরে থাকে।

drug

অন্যদিকে মাদকের সহজলভ্যতা আর মানুষের মূল্যবোধের অভাবই প্রধান দায়ী। অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি উদাসীনতা, সন্তানদের প্রয়োজনের অধিক অর্থের যোগান দেয়া, পশ্চিমাদের এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি ঝোঁক, আধুনিকতার নামে অশ্লীলতা, গোটা সমাজ ব্যবস্থায় অবক্ষয় একজন মেয়েসহ একজন সন্তানকে মাদক গ্রহণ করার দিকে ঠেলে দেয়। দিন দিন মেয়েরা মাদক গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে। যেটা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। দেশে পুরুষের পাশাপাশি নারী মাদকাসক্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে ।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৫৬ লাখ। এদের মধ্যে ১৩ লাখই নারী। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম যেভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, এতে সমাজে নিয়ন্ত্রণহীন মাদকের বিস্তৃতি ক্রমেই হয়ে উঠেছে সর্বগ্রাসী। এই ভয়াল মাদক আমাদের সমাজের তারুণ্য, মেধা, বিবেক,ধর্মের প্রতি অনীহা, লেখাপড়া ও মনুষ্যত্ব-সবকিছুই ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিনষ্ট করছে স্নেহ, মায়া, ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন। মাদকাসক্ত হওয়ার পেছনে প্রধান বিষয় কাজ করেঃএগুলো হলো- বাবা-মার সন্তানের প্রতি খেয়াল না রাখা, ছেলে-মেয়েদের হাতে অতিরিক্ত টাকা দেয়া এবং খারাপ বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে মেশা। এছাড়াও কৌতূহল, কুসঙ্গ, প্রেমে ব্যর্থতা, পারিবারিক অশান্তি, দারিদ্র, অত্যধিক অর্থশালী হওয়া, পশ্চিমা সংস্কৃতি, মাদকের সহজলভ্যতা ইত্যাদি কারণেও মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের একটি জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কমপক্ষে ৬৫ লাখ মানুষ সরাসরি মাদকাসক্ত। তাদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ পুরুষ ও ১৩ শতাংশ নারী।

দেশে ১ লাখেরও বেশি মানুষ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদক ব্যবসায় বড় বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী এবং শিশু-কিশোররাও সম্পৃক্ত। কিন্তু এদের POLICE রা কিছু করতে পারে না । কারণ মাদক ব্যবসাইরা হল MONEY BANK আর POLICE রা হল সর্বস্তরের খাদক। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জরিপে বলা হয়, আসক্তদের মধ্যে শতকরা ৯১ শতাংশ কিশোর ও তরুণ।শতকরা ৪৫ শতাংশ বেকার, ৬৫ শতাংশ আন্ডার গ্র্যাজুয়েট এবং ১৫ শতাংশ উচ্চ শিক্ষিত মাদকাসক্তও রয়েছেন। মাদকাসক্ত বা নেশা এমন এক জটিল সমস্যা, যা আমাদের জীবনে পদে পদে সমস্যা বয়ে আনতে পারে।
যদি আমরা আমাদের সমাজে মাদক থেকে রক্ষা পেতে চাই তাহলে আমাদের আইনের ষূশঠো ব্যাবহার করতে হবে। প্রকাশ্য বিচার করতে হবে। সমাজের প্রতিটি ব্যক্তির সচেতনতাই পারে এই সমস্যা থেকে নতুন এবং আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে। আসুন, আমরা সবাই নিজেরা সচেতন হই এবং যেসব নারী বা পুরুষ মাদকাসক্ত, তাদেরকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলি। এর জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পরিশেষে এই ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসন এর সর্বচ্চো চেষ্টা দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

One Reply to “এটাই কি নারীর স্বাধীনতা ,এটাই কি নারীর চাওয়া সমান অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *