ইতিহাসের সবথেকে রহস্যময় বিজ্ঞানী ‘নিকোলা টেসলা’! মানব কল্যাণে টেসলার যুগান্তরকারী আবিষ্কার। | Factarticle.Com            
Factarticle.Com

ইতিহাসের সবথেকে রহস্যময় বিজ্ঞানী ‘নিকোলা টেসলা’! মানব কল্যাণে টেসলার যুগান্তরকারী আবিষ্কার।

একবার আইনস্টাইন কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি হতে কেমন লাগে?’
উনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘এর উত্তর আমার জানা নেই। আপনি নিকোলা টেসলা কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন!
Tesla

নিকোলা টেসলা

যারা বিজ্ঞানকে প্রকৃত ভালোবাসেন, নিকোলা টেসলা তাদের অনেকের কাছে মোটামুটি সুপারহিরো। কারো কারো কাছে তিনি ব্যাটম্যান, বিজ্ঞানের জগতের ‘দ্যা ডার্ক নাইট’।
পৃথিবীর ইতিহাসে সব থেকে রহস্যময় ও বিস্ময়কর বিজ্ঞানী ছিলেন নিকোলা টেসলা যিনি সত্যি বলতে পুরো আধুনিক পৃথিবীরটা আমাদের দিয়ে গেছেন।
আজ পৃথিবীর হাতের মুঠোয় চলে আসা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স, বেতার ব্যবস্থার বিস্ময়কর সব প্রযুক্তি… এসব কিছুই হয়তো সম্ভব হতোনা তাঁকে ছাড়া ।
  • আমাদের পরিচিত এবং বাসাবাড়িতে বহুল ব্যবহৃত ফ্লুরোসেন্ট বাতির আবিষ্কারক কে? আপনি নিশ্চয়ই ভাববেন ‘টমাস আলভা এডিসন’ কিংবা ‘পিটার কুপার হিউইট (Peter Cooper Hewitt)’।
  • আধুনিক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবিষ্কারকের কথা জিজ্ঞেস করলেও আমাদের উত্তর হয় জর্জ ওয়েস্টিংহাউজ (‘লেস্টার অ্যালান পেল্টন’ জলবিদ্যুৎ শক্তি সম্পর্কিত ধারণা দেন। কিন্তু বর্তমানে আমরা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে যেভাবে চিনি সেটার আবিষ্কারক হিসেবে ধরা হয় ‘জর্জ ওয়েস্টিংহাউজকে’)।
  • একইভাবে আমরা এখন যে এক্স-রে প্রযুক্তি ব্যবহার করি এর নেপথ্য নায়ক, রেডিওর আবিষ্কারক বলা হয় যথাক্রমে উইলহেলম রন্টজেন ও গুইয়েলমো মার্কনিকে (Guglielmo Marconi) ।

     কিন্তু সবকিছুর জবাব ‘নিকোলা টেসলা’!

আমার এই কথা শোনার পর আপনার ধোঁয়াশা আর কৌতুহল দুটোই মেটানোর চেষ্টা করব আমি 😅 ।
শুধু উপরের এই আবিষ্কারগুলোতেই নয়; এই যে ইন্টারনেটে বসে আপনার জীবনের মূল্যবান সময়গুলো ফেইসবুকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করছেন, এর পেছনেও আছে টেসলার অবদান। আসলে আপনি যে আপনার কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ইত্যাদি চালাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন সেটা টেসলারই অবদান! আপনার রুমে যে বাতি জ্বলছে সেটা টেসলার অবদান। এফ এম রেডিওতে যে আর.জে. দের বকবক শুনেন সেটাও টেসলারই অবদান!

মানব কল্যাণে Nikola Tesla এর যুগান্তরকারী আবিষ্কার গুলোঃ

300 এর বেশি আবিস্কারের প্যাটেন্ট ছিল এই মহান বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলার। এছাড়াও অনেক আবিস্কারের প্যাটেন্টই গ্রহন করেননি। আর অনেক আবিষ্কারের আইডিয়া চুরি করে অনান্য বিজ্ঞানীরা নিজের বলে চালিয়েছিল। নিকোলা টেসলা একমাত্র বিজ্ঞানী ছিলেন যিনি যা চিন্তা করতে তাই-ই তৈরি করে দেখাতেন। আবিষ্কারই ছিল তাঁর নেশা!

1. AC ELECTRICITY:

এই সম্পর্কে আগেই বিস্তারিত বলা হয়েছে। এসি বিদ্যুৎ আবিষ্কার না হলে আমরা অন্ধকার পৃথিবীতেই থাকতাম। আর পৃথিবীতে এত শিল্প বিপ্লব হত না।

2. RADIO:

মারকনির রেডিও আবিস্কারের কয়েক বছর আগেই নিকোলা টেসলা রেডিও আবিষ্কার করেছিলেন এবং রেডিও তরঙ্গও তাঁর গবেষণার কাজেও ব্যবহার করেছিলেন। 1943 সালে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট সত্যটা জানার পরে মারকনির রেডিও প্যাটেন্ট বাতিল ঘোষণা করে নিকলা টেসলাকে রেডিও আবিষ্কারক হিসাবে ঘোষণা করে। কিন্তু একবছর পর প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় মারকনি প্যাটেন্টটি নিজের নামে বহাল রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

3. REMOTE, ROBOT AND GUIDED MISSILE SYSTEM:

নিকোলা টেসলা রিমোট প্রযুক্তির জনক ছিলেন। তিনি একটি খেলনা নৌকাকে দুর নিয়ন্ত্রিত ভাবে চালাতে গিয়ে একসাথে ৩ টি আবিষ্কার করে ফেলেন। ১. পৃথিবীর সর্বপ্রথম রিমোট , ২.পৃথিবীর সর্বপ্রথম রোবট , ৩.পৃথিবীর সর্বপ্রথম গাইডেড মিসাইল সিস্টেম।

4. WIRELESS ELECTRICITY:

নিকোলা টেসলা এমন একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন, কোনো তার ছাড়াই বিদ্যুৎ এক স্থান থেকে অন্যস্থানে পাঠানো যেত। তিনি তখনকার সময়ে একজন নামকরা বাবসায়ীর থেকে ফান্ড নিয়ে তৈরি করে 187 ফুট উঁচু একটি Tesla Tower যেখান থেকে তার ছাড়াই বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে এবং তিনি সম্পূর্ণ ফ্রিতে সারা পৃথিবীকে বিদ্যুৎ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
তিনি পুরো পৃথিবীকেই একটা conductor হিসাবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন এবং সার্থকও হয়েছিলেন। কিন্তু প্রজেক্টটির কাজ শেষ হবার আগেই বিনিয়োগকারীরা হঠাৎ করেই টাকার জোগান দেয়া বন্ধ করে দেয়। কারণ বিদ্যুৎ কোম্পানি গুলো ভয়ে ছিল যদি সারা পৃথিবীতে ফ্রিতে বিদ্যুৎ দেয়া হয় অনেক কোম্পানিই দেউলিয়া হয়ে যাবে। আবিষ্কারটি হারিয়ে গেছে। না হলে আজ আমরা তার ছাড়াই ফ্রিতে বিদ্যুৎ পেতাম।

5. EARTHQUAKE MACHINE:

1893 সালে নিকোলা টেসলা এমন একটি মেশিন তৈরি করেন যা দিয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি করে ফেলেছিলেন। এটি মূলত ছিল একটি Oscillator যার নাম দিয়েছিলেন “Tesla Oscillator” এবং তিনি অনুভব করেছিলেন তাঁর যন্ত্রটিকে যদি খুব বড় পরিসরে তৈরি করা হয় পুরো পৃথিবীতে ভূমিকম্প সৃষ্টি করা যেতে পারে। মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে তিনি নিজের হাতে হাতুরি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছিলেন এবং আবিষ্কারটিও হারিয়ে যায়।

6. ARTIFICIAL TIDAL WAVE:

সমুদ্রে বিশাল কৃত্রিম ঢেউ তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন যা সুনামি তৈরি করতে সক্ষম ছিল এবং যা দিয়ে শত্রু পক্ষের জাহাজকে সেই ঢেউতে ডুবিয়ে দিতে পারতো।

7. THOUGHT CAMERA:

নিকোলা টেসলা সেই সময়েই এমন একটি ক্যামেরা তৈরির কথা বলেছিলেন যা মানুষের চিন্তা শক্তি থেকে ডাটাতে কনভার্ট করে সেই গুলোকে দেখা যাবে একটি স্ক্রিনে, এমন একটি প্রজেক্ট। কিন্তু তিনি আর্থিক কারণেপ্রজেক্ট সফল করতে পারেননি। সম্ভব হলে মানুষের কোনো কিছুই আর গোপন থাকতো না।

8. ELECTRIC-POWERED SUPERSONIC AIRSHIP:

তিনি এমন একটি Airship এর কথা বলেন যার গতি হবে এতই বেশি মাত্র ৩ ঘণ্টায় New York City এ যেতে London পারবে কিন্তু এই আবিষ্কারটির সমস্ত মডেল, ডকুমেন্ট মৃত্যুর পরে হারিয়ে যায়।

9. PHILADELPHIA EXPERIMENT / PROJECT RAINBOW / TELEPORTATION:

এটি ছিল World War 2 এর সময়ের একটি প্রজেক্ট। আমেরিকার নৌবাহিনী জাহাজ অদৃশ্য করে শত্রু বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই প্রজেক্ট এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো নিকোলা টেসলাকে। সেই প্রজেক্ট এ নিকোলা টেসলার অধীনে আলবার্ট আইনস্টাইনকেও টিম মেম্বার করা হয়। নিকোলা টেসলা ছোট একটি Boat এর ক্ষেত্রে সার্থক হয়েছিলেন। নিকোলা পুরোপুরি অদৃশ্য করে ফেলেন সেটিকে। কিন্তু এই পরীক্ষাটি করে সফল হওয়ার পর কিছু ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর নিকোলা টেসলা প্রজেক্ট থেকে অব্যাহতি নেন এনং তিনি নিষেধ করেছিলেন আইনস্টাইন সহ বাকি যে মেম্বরদেরকে যাতে এই বড় জাহাজ এর ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাটি না করা হয়। কিন্তু তার পরেও পরীক্ষাটি করা হয়েছিলো জাহাজে কয়েকজন ক্রুসহ। পরে জাহাজটি অদৃশ্য হয়েছিল ঠিকই কিন্তু জাহাজে অবস্থিত ক্রুদের বিগলিত লাশ, কেউ কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন, এবং কাউকে জাহাজের দেয়ালে অর্ধেক শরীর ঢুকে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। নিকোলা টেসলা কিন্তু আগে থেকেই এর ভয়াবহতা কল্পনা করেছিলেন।

10. ANTI GRAVITY FLYING MATCHING:

১৯১১ সালে New York এর একটি ম্যাগাজিনকে বলেন নিকোলা টেসলা আরও একটি Flying Matching নিয়ে কাজ করছিলেন যেটি দেখতে (UFO) এর মত হবে এবং যেকোন দিকে যেকোন গতিতে ছুটতে পারবে। এটি আকাশে ওড়ার সময় গ্রাভিটি শুন্য হয়ে পড়বে এবং বাতাসে স্থির অবস্থায় রাখা যাবে। কিন্তু এই মেশিনটিতে না থাকবে কোন পাখা না থাকবে কোন উইংস।

11. TIME MACHINE:

নিকোলা টেসলা একমাত্র বিজ্ঞানী যিনি Time Machine নিয়ে কাজ করেছিলেন সবার প্রথম। অনেকেই মনে করেন তিনি টাইম মেশিন তৈরি করে ফেলেছিলেন।

12. DEATH RAY / DEATH BEAM:

Nikola Tesla এর যে কয়টি ভয়াবহ আবিষ্কারের কথা বলে ছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল Death Ray .  এটি এমন একটি যন্ত্র যা ২৫০ মাইল দূর থেকে ১০ হাজার যুদ্ধ বিমানকে এক সাথে ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা রাখতে পারতো এবং যে কোন যুদ্ধকে শেষ করে দিতে পারতো। অনেকে বলেন তিনি এই যন্ত্রটি তৈরিও করে ফেলেছিলেন কিন্তু এটি দিয়ে মানুষ পৃথিবী ধ্বংস করে দেবে চিন্তা করে এই যন্ত্রটিকেও তিনি নষ্ট করে ফেলেন। তাঁর ল্যাবে একাধিকবার আগুন লেগে অনেক আবিষ্কারের ডকুমেন্টই পুরে গেছিলো ।
এরকম বিস্ময়কর আবিষ্কারের জন্য অনেক বিজ্ঞানীই মনে করতেন Nikola Tesla এর সাথে এলিয়েনদের যোগাযোগ রয়েছে এবং তাঁদের সাথে কাজও করেন। সত্যি বলতে তাঁর সম্পর্কে জানার পর আমার নিজের কাছেও তাঁকে এলিয়েন মনে হয়েছিলো। নিকোলা টেসলা পৃথিবী ধ্বংসের যন্ত্র আবিষ্কারের কথা শুনে আমেরিকা তাঁর সব নথি জব্দ করেছিল। কিন্তু নিকোলা কাজ করেছিলেন মানুষের কল্যাণে ।

Shahin Hasan

Add comment

Ads

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed

shares